• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:২৯ এএম


বিক্ষো/ভ ঠেকাতে শিক্ষার্থীদের বাড়িতে থাকতে ও লাইভ লোকেশন দিতে বলছে মুম্বাই পুলিশ

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৪ জুলাই ২০২৬ ৮:০৭ এএম

ভারতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট মামলায় আগে থেকেই এফআইআরে নাম থাকা ব্যক্তিদের নতুন করে রাজপথে নামা ঠেকাতে তিনটি কৌশল অনুসরণ করছে মুম্বাই পুলিশ। এসব কৌশলের মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থীদের ফোন করে বাড়িতে থাকতে বলা, তাদের বাসায় পুলিশ পাঠানো এবং অবস্থান নিশ্চিত করতে লাইভ লোকেশন শেয়ার করতে বলা। একাধিক বিক্ষোভকারী ও পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্যে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

এদিকে, এক বিক্ষোভকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনের স্ক্রিনশট প্রকাশ করেছেন। সেখানে মুম্বাইয়ের ভারসোভা থানার জ্যেষ্ঠ পরিদর্শক দীপশিখা ভারে ওই বিক্ষোভকারীকে বাড়িতে অবস্থান করতে এবং সেটির প্রমাণ হিসেবে ‘লাইভ লোকেশন’ চালু রাখতে বলেছেন।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে দীপশিখা ভারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে একই থানার আরেক কর্মকর্তা জানান, সংশ্লিষ্ট বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে একটি এফআইআর হয়েছে, যদিও তাকে আটক করা হয়নি।

আরও কয়েকজন বিক্ষোভকারী দাবি করেন, পুলিশ সরাসরি তাদের বাড়িতেও গিয়েছিল। তাদের একজন বলেন, ‘আমার বাড়িতে পুলিশ যায়নি। কিন্তু অনেক বিক্ষোভকারী ছিলেন তরুণ, যারা পরিবারকে বিষয়টি জানাননি। পুলিশ তাদের বাড়িতে গিয়ে একদিকে যেমন পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছে, অন্যদিকে তাদের বিক্ষোভে যোগ দেওয়া থেকেও নিরুৎসাহিত করেছে।’

২০ বছর বয়সী এক বিক্ষোভকারী জানান, তিনি মুম্বাইয়ের দাদার এলাকার শিবাজি পার্ক থানা থেকে ফোন পান। তাকে বলা হয়, তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ তার বাড়িতে যাবে, তাই তিনি যেন বাড়িতে থাকেন। তার ভাষায়, ‘এটা যে আমাদের বিক্ষোভে যোগ দেওয়া ঠেকানোর একটি কৌশল, তা স্পষ্ট।’

একাধিক তরুণ বিক্ষোভকারী বলেন, পুলিশের ফোন ও সতর্কবার্তার কারণে তারা বুধবারের (২২ জুলাই) বিক্ষোভে অংশ নিতে পারেননি। শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোর জোট মুম্বাই এগেইনস্ট সাপ্রেশন অব স্টুডেন্টস (এমএএসএস)-এর এক সদস্য জানান, গত সোমবার ও মঙ্গলবারের বিক্ষোভের পর তাদের অধিকাংশের কাছেই নোটিশ পৌঁছেছে।

ওই সদস্য বলেন, ‘বুধবার সকালে কেউ কেউ ফোন পান। তাদের বলা হয়, একটি এফআইআরে তাদের নাম রয়েছে। তাই আর কোনো বিক্ষোভে তারা যেন যোগ না দেন। আবার একই সতর্কবার্তা দিতে পুলিশ কর্মকর্তারা অন্যদের বাড়িতেও গিয়েছিলেন।’

দাদার এলাকায় আন্দোলনে অংশ নেওয়া প্রকৌশল বিভাগের এক শিক্ষার্থী জানান, সোমবারের বিক্ষোভের পর নোটিশ পাওয়া তার এক বন্ধু বুধবার পুলিশের ফোন পাওয়ার পর আর বিক্ষোভে অংশ নেননি।

তিনি বলেন, ‘আজকের বিক্ষোভটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ, আগামীকাল থেকে আর কোনো সমাবেশ হবে না। আমরা একসঙ্গে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলাম। কিন্তু পুলিশের ফোন পাওয়ার পর আমার বন্ধু আর আসতে পারেনি। তাকে বলা হয়েছিল, যেহেতু তিনি ইতিমধ্যে নোটিশ পেয়েছেন, তাই তাকে আরেকটি বিক্ষোভে দেখা গেলে তার জন্য সমস্যা হতে পারে।’

মুম্বাই পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, যেসব তরুণ-তরুণী এফআইআরের পরিণতি পুরোপুরি বোঝেন না, তাদের নিজেদের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত করা থেকে বিরত রাখাই পুলিশের উদ্দেশ্য। তিনি আরও জানান, বিক্ষোভ সংগঠিত করতে ব্যবহৃত কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এসব গ্রুপে বিদেশে অবস্থানরত ভারতীয় শিক্ষার্থীরাও রয়েছেন।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘কিছু ক্ষেত্রে আমরা এমন হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর পেয়েছি, যেগুলো বিদেশে অবস্থানরত ভারতীয় শিক্ষার্থীরা ব্যবহার করছেন। আমরা তাদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করছি। তবে আমাদের মূল উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এবং তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর হওয়া নিরুৎসাহিত করা। কারণ, এতে তাদের ভবিষ্যৎ ও পাসপোর্ট যাচাইয়ের মতো প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে।’

/এসএন