• ঢাকা
  • বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১২:০১ এএম


সিরাজগঞ্জে চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, এক চোখ হারালেন এইচএসসি শিক্ষার্থী সাব্বির!

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৩ জুলাই ২০২৬ ৫:২৫ পিএম

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া ও জামতৈল স্টেশনের মধ্যবর্তী এলাকায় চলন্ত দ্রুতযান এক্সপ্রেসে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) এইচএসসি শিক্ষার্থী মো. সাব্বির হোসেন (২২) একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পঞ্চগড় থেকে ঢাকাগামী ট্রেনটিতে এ ঘটনা ঘটে।

আহত সাব্বির জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার কেশবপুর গ্রামের মো. দুলাল হোসেনের ছেলে।

সাব্বিরের বড় ভাই সুলতান জানান, উল্লাপাড়া স্টেশন ছাড়ার কিছুক্ষণ পর এবং জামতৈল স্টেশনে পৌঁছানোর আগমুহূর্তে ট্রেনের জানালা দিয়ে ছোড়া একটি বড় পাথর সাব্বিরের ডান চোখে আঘাত করে। এতে তার ডান চোখের কর্নিয়া সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায় এবং চোখের নিচের হাড় ভেঙে যায়। একই সঙ্গে মাথায়ও গুরুতর আঘাত পান তিনি।

ঘটনার পর সাব্বিরকে জামতৈল রেলওয়ে স্টেশনে নামিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। আঘাতের মাত্রা নির্ণয়ের জন্য তার সিটি স্ক্যান করা হবে।

সাব্বিরের ভাই সুলতান বলেন, চিকিৎসা শেষ হওয়ার পর পুলিশের সহযোগিতায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের সঙ্গে এলাকার কিছু বখাটে বা মাদকসেবী জড়িত থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, রেলপথের কয়েকটি স্থানে দীর্ঘদিন ধরে বখাটে ও মাদকসেবীদের আড্ডা বসে।

স্থানীয়দের মতে, কামারখন্দ উপজেলার রসুলপুর-কয়েলগাতী এলাকার ছাগলাপাগলা দহ রেলব্রিজ, তাজুরপাড়ার চতরার দহ রেলব্রিজ এবং উল্লাপাড়া উপজেলার ঘাটিনা রেলসেতু এলাকা এ ধরনের ঘটনার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত।

সিরাজগঞ্জ বাজার রেলওয়ে স্টেশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল ইসলাম তালুকদার বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে উল্লাপাড়া ও জামতৈল স্টেশনের মধ্যবর্তী কোনো স্থান থেকে ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। আহতের পরিবার চিকিৎসা শেষে মামলা করবে বলে জানিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

/এএসএফ