• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১১:০৭ এএম


শিশু তায়েবা হত্যা:সেপটিক ট্যাঙ্কে মেলে শিশুর লাশ, খুন করেন চাচি

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২২ জুলাই ২০২৬ ১১:৫৬ এএম

খেলার কথা বলে বিকেলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল ছয় বছরের শিশু তায়েবা। সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে শুরু করেন। কিন্তু কোথাও তার সন্ধান মেলেনি। নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর প্রতিবেশীর সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে উদ্ধার করা হয় তার মরদেহ। প্রায় এক বছর আগে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুরে ঘটে যাওয়া এ আলোচিত হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।সম্প্রতি পিবিআই আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

তদন্তে বলা হয়েছে, পারিবারিক বিরোধের জেরে শিশুটিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তায়েবার চাচি, স্কুলশিক্ষিকা আয়েশা খাতুন, প্রতিবেশী শাহানাজ বেগম, রংমিস্ত্রি আসিফ ব্যাপারী এবং নাছিমা বেগমের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।পিবিআই গোপালগঞ্জের পরিদর্শক মাইনুল ইসলাম জানান, গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে তায়েবা খেলতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। তদন্তে উঠে এসেছে, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আয়েশা তাকে প্রতিবেশী শাহানাজের বাড়ির লাকড়ির ঘরে নিয়ে যান।

সেখানে আয়েশা, শাহানাজ ও আসিফ মিলে শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।তদন্ত অনুযায়ী, প্রথমে গলা টিপে হত্যার চেষ্টা করা হলেও শিশুটি মারা না গেলে একটি ব্লাউজ দিয়ে তার গলায় ফাঁস দেওয়া হয়। পরে আয়েশা ও আসিফ মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে সেটি শাহানাজের বাড়ির টয়লেটের সেপটিক ট্যাঙ্কে ফেলে দেন। হত্যার পর আয়েশার পরামর্শে শাহানাজ এলাকা ছেড়ে চলে যান। তায়েবার কানের দুল বিক্রি করে তিনি ঢাকায় চলে যান বলেও তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, নাছিমা ঘটনাটি জানার পরও গোপন রাখেন বলে অভিযোগ রয়েছে।নিখোঁজের দুই দিন পর স্থানীয়দের সন্দেহ হলে শাহানাজের বাড়ির সেপটিক ট্যাঙ্কের ঢাকনা খুলে ভেতরে তায়েবার মরদেহ পাওয়া যায়। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠায়। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে শিশুটির মৃত্যুর কারণ হিসেবে শ্বাসরোধের কথা উল্লেখ করা হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, টানাহেঁচড়ার কারণে তার জননাঙ্গে আঘাতের চিহ্ন থাকলেও ধর্ষণের কোনো আলামত বা শুক্রাণু পাওয়া যায়নি।

পিবিআইর তদন্তে আরও জানা যায়, তায়েবার বাবা টিটু সরদার ও চাচা শাহান সরদারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পৈতৃক সম্পত্তির সীমানা নিয়ে বিরোধ চলছিল। পরে শাহান ও আয়েশা দম্পতির বড় মেয়ের বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে কটূক্তি ও উত্তেজনা আরও বাড়ে। তদন্ত সংস্থার দাবি, এসব ঘটনার জেরে ক্ষোভ থেকে আয়েশা শিশুটিকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। গ্রেপ্তারের পর আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র: পিবিআই তদন্ত প্রতিবেদন।

/বিএসএস