• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:১৯ এএম


সন্তানদের অবহেলায় বেঁচে থাকতেই কবর প্রস্তুত, মৃত্যুর অপেক্ষায় দিন গুনছেন ঠাকুরগাঁওয়ের বৃদ্ধা

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৭ জুলাই ২০২৬ ৪:৩৬ পিএম

জীবনের শেষ সময়ে অধিকাংশ মা-বাবার ভরসা থাকে সন্তানের ওপর। কিন্তু সেই আশাই যখন ভেঙে যায়, তখন বাস্তবতা হয়ে ওঠে নির্মম। এমনই এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লী উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের বড়বালিয়া পাইকারমনি গ্রামে। সন্তানেরা মৃত্যুর পর যথাযথভাবে দাফন করবেন কি না—এই অনিশ্চয়তা থেকেই জীবিত থাকতেই নিজের কবর তৈরি করে রেখেছেন বৃদ্ধা আয়েশা খাতুন।আয়েশা খাতুন ওই গ্রামের মৃত আয়নাল হকের স্ত্রী। স্বামীর মৃত্যুর পর দীর্ঘদিন ধরে সন্তানদের অবহেলা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তিনি।

অভিযোগ রয়েছে, ছেলেরা তার সম্পত্তি নিজেদের নামে লিখে নেওয়ার পর আর মায়ের খোঁজখবর রাখে না। বড় ও ছোট ছেলের বাড়িতে কিছুদিন থাকার পর বনিবনা না হওয়ায় সেখান থেকেও তাকে বের করে দেওয়া হয়।পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় স্বামীর দেওয়া আড়াই শতাংশ জমির ওপর একটি ছোট ঘরে আশ্রয় নেন আয়েশা খাতুন। সন্তানদের ওপর আস্থা হারিয়ে সেই ঘরের পাশেই নিজের কবর তৈরি করে রেখেছেন তিনি। প্রতিদিন সেই কবরের পাশ দিয়ে হাঁটেন আর নীরবে মৃত্যুর অপেক্ষা করেন।বৃদ্ধা আয়েশা খাতুন বলেন, “সন্তানরা কেউ খোঁজখবর নেয় না।

ঘরের মধ্যে পানি ঢুকে যায়, তারপরও কষ্ট করে থাকি। ঘরে বিদ্যুৎ নেই, অন্ধকারে থাকতে হয়। অনেক সময় না খেয়েও দিন পার করতে হয়। একবারও তারা জানতে চায় না, মা কেমন আছে। এত কষ্ট করে সন্তানদের বড় করলাম, অথচ এখন কেউ দেখতেও আসে না।”—কান্নাজড়িত কণ্ঠে এভাবেই নিজের অসহায় জীবনের কথা জানান তিনি।স্থানীয় বাসিন্দা হাশেম আলী বলেন, প্রায় পাঁচ বছর ধরে আয়েশা খাতুন এখানে একা থাকছেন। অত্যন্ত কষ্টে তার দিন কাটে।

তিনি জানান, সন্তানরা জমি লিখে নেওয়ার পর আর মায়ের কোনো খোঁজ নেয় না। এমনকি আয়েশা খাতুন এলাকাবাসীকে বলে রেখেছেন, মৃত্যুর পর যেন তাকে তার নিজের তৈরি করা কবরেই দাফন করা হয়।হাশেম আলীর দাবি, বৃদ্ধার ছেলেরা সবাই ব্যবসা করেন এবং আর্থিকভাবে সচ্ছল। কিন্তু তারপরও তারা মায়ের দায়িত্ব নিচ্ছেন না। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে উল্টো স্থানীয়দের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করা হয়।

এদিকে, আয়েশা খাতুনের সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা বৃদ্ধার আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।বৃদ্ধা মায়ের এই ঘটনা স্থানীয়দের গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। অনেকের মতে, একজন মাকে জীবিত অবস্থায় নিজের কবর তৈরি করে রাখতে হওয়া সমাজ ও পারিবারিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়ের প্রতীক। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপে আয়েশা খাতুনের নিরাপত্তা ও যথাযথ দেখভালের ব্যবস্থা করা হোক এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হোক।

/বিএসএস