• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫১ পিএম


অন্ধ মানুষ আসলে কী দেখেন? বিজ্ঞানের ব্যাখ্যায় ভাঙছে প্রচলিত ধারণা

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ৩:২২ পিএম

দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন মানুষের মনে প্রায়ই প্রশ্ন জাগে—অন্ধ মানুষ আসলে কী দেখেন? অনেকেই মনে করেন, তারা শুধু অন্ধকার বা কালো রংই দেখেন। তবে বিজ্ঞান বলছে, বিষয়টি এতটা সরল নয়। কারণ দেখা শুধু চোখের কাজ নয়; মূল ভূমিকা পালন করে মস্তিষ্ক। তাই একজন ব্যক্তি কখন দৃষ্টি হারিয়েছেন এবং তার অন্ধত্বের মাত্রা কতটুকু—তার ওপর নির্ভর করে দেখার অভিজ্ঞতা ভিন্ন হয়।

যাঁরা জন্ম থেকেই দৃষ্টিহীন, তাঁরা আসলে কোনো দৃশ্যই অনুভব করেন না। ‘অন্ধ মানেই কালো দেখা’—এই ধারণাটি সঠিক নয়। কারণ কালো রং বোঝার জন্য আগে রং দেখার অভিজ্ঞতা থাকা প্রয়োজন। জন্মগতভাবে অন্ধ ব্যক্তিদের অনুভূতি অনেকটা এমন, যেন চোখ দিয়ে নয়, শরীরের অন্য কোনো অংশ দিয়ে দেখার চেষ্টা করা হচ্ছে—যেখানে দৃশ্য বলতে কিছুই নেই, একেবারে শূন্যতা।

অন্যদিকে, যাঁরা জীবনের কোনো এক পর্যায়ে দৃষ্টি হারিয়েছেন, তাঁদের অভিজ্ঞতা ভিন্ন হতে পারে। কেউ সম্পূর্ণ অন্ধকার দেখেন, আবার কেউ চোখের সামনে আলোর ঝলকানি বা নানা ধরনের কাল্পনিক দৃশ্য দেখতে পান। এই অবস্থাকে বলা হয় চার্লস বোনেট সিনড্রোম। এটি কোনো মানসিক রোগ নয়; বরং চোখ থেকে সঠিক সংকেত না পেলে মস্তিষ্ক নিজেই ছবি তৈরি করতে শুরু করে।

কিছু মানুষ আংশিকভাবে দেখতে পান—যেমন বড় বস্তু বা মানুষের অবয়ব আবছাভাবে বোঝা যায়। কেউ নির্দিষ্ট দূরত্ব পর্যন্ত দেখতে পারেন, কেউবা রঙের পার্থক্য ধরতে পারেন। আবার অনেকেই আলো জ্বলা বা নিভে যাওয়ার মতো পরিবর্তন টের পান—এটিকে বলা হয় ‘লাইট পারসেপশন’।

দৃষ্টিহীনদের রঙ-অনুভূতি নিয়েও গবেষণা হয়েছে। সুইজারল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব লোজান এবং অস্ট্রিয়ার ইউনিভার্সিটি অব ভিয়েনা–এর গবেষকদের এক গবেষণায় দেখা গেছে, দৃষ্টিহীন ব্যক্তিরাও মানসিকভাবে রঙের ধারণা গঠন করতে পারেন। এমনকি জন্মগতভাবে অন্ধ ব্যক্তিরাও ভাষা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে রঙ সম্পর্কে বোঝাপড়া তৈরি করেন।

স্বপ্নের বিষয়টিও বেশ আগ্রহের। গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা আগে দেখতে পেতেন কিন্তু পরে অন্ধ হয়েছেন, তাঁরা স্বপ্নে ছবি ও রঙ দেখতে পারেন। তবে জন্মগতভাবে অন্ধ ব্যক্তিদের স্বপ্নে দৃশ্য থাকে না। তাদের স্বপ্ন গড়ে ওঠে শব্দ, স্পর্শ, গন্ধ ও অনুভূতির ওপর ভিত্তি করে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, অন্ধ মানুষের ‘দেখা’ একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম। এটি নির্ভর করে তাদের অভিজ্ঞতা, দৃষ্টি হারানোর সময় এবং মস্তিষ্কের কার্যপ্রণালীর ওপর।

সূত্র: স্লিপ ফাউন্ডেশন, সায়েন্স ডাইরেক্ট ডটকম