• ঢাকা
  • শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৪১ এএম


সেনাবাহিনীর সহায়তায় তিন দিন পর সাজেক ছাড়লেন আট’কে থাকা সব পর্যটক

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১০ জুলাই ২০২৬ ২:৫০ পিএম

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে তিন দিন ধরে সাজেকে আটকে থাকা সব পর্যটককে সেনাবাহিনীর সহায়তায় নিরাপদে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে পর্যটকেরা হোটেল ও রিসোর্ট ত্যাগ করেন। পরে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে তাদের নিরাপদে সাজেক থেকে বের করে আনা হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সেনাবাহিনীর সহায়তায় প্রায় ১৫০ জন পর্যটক সাজেক ত্যাগ করেছিলেন।

সাজেক রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি সুপর্ণ দেব বর্মণ জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে ১৫০ জন পর্যটক সাজেক ছাড়েন। শুক্রবার সকালে আরও ৩১১ জন পর্যটক সেনাবাহিনীর সহায়তায় নিরাপদে নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হন। এর মাধ্যমে সাজেকে আটকে থাকা সব পর্যটককে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।

অন্যদিকে, টানা বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কাচালং নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার প্রায় ৩০টি গ্রামের হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। উপজেলার ১৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় চার হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সুপ্তশ্রী সাহা জানান, পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ড এবং উপজেলার আটটি ইউনিয়নের প্রায় সব এলাকাই বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানকারীদের রান্না করা খাবারের পাশাপাশি চাল, ডাল, চিড়া, চিনি ও অন্যান্য শুকনো খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।

এদিকে, রাঙামাটি সদর উপজেলার সাপছড়ি ইউনিয়নের শুকুরছড়ি এলাকায় মাটি ধসে ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের দুটি খুঁটি হেলে পড়ায় বৃহস্পতিবার রাত ৮টা থেকে শুক্রবার ভোর ৪টা পর্যন্ত জেলা শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল।

রাঙামাটি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী জানিয়েছেন, টানা বর্ষণের কারণে জেলার বিভিন্ন স্থানে ১০৪টি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় সাড়ে চার হাজার মানুষ অবস্থান করছেন।

এদিকে, গত ৭ জুলাই বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া বাজারের মুদি ব্যবসায়ী মো. বদিউল আলম (৪৫) নিখোঁজ হন। তিনি মোটরসাইকেলে করে নিজ বাড়ি থেকে ফারুয়া বাজারে যাওয়ার পথে প্রবল বৃষ্টির কারণে গোয়েনছড়ি বিহার এলাকায় মোটরসাইকেল রেখে হেঁটে রওনা দেন। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। বদিউল আলম চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা গ্রামের বাসিন্দা।

একই দিনে রাঙামাটি সদর উপজেলার মগবান ইউনিয়নের দলমনি চাকমা নদী পার হওয়ার সময় স্রোতে ভেসে যান। পরে বৃহস্পতিবার বিকেলে কাপ্তাই হ্রদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া একই দিনে বাঘাইছড়ি উপজেলায় পাহাড়ধসে লক্ষ্মী বিলাশ চাকমা (৬০) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, কাপ্তাই উপজেলায় পাহাড়ধসের ঘটনায় আহত দুই শিশু বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

/এসএন