• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৬ পিএম


‘যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সভ্যতা, ইতিহাস বা সম্মান নেই’—ইরান

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৬ জুলাই ২০২৬ ৮:০৭ পিএম

সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইরান। তেহরানের দাবি, মানুষকে হত্যা করা সম্ভব হলেও কোনো আদর্শকে ধ্বংস করা যায় না। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক ইতিহাস নিয়েও কড়া সমালোচনা করেছে দেশটি। তাদের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ‘সভ্যতা’, ‘ইতিহাস’ কিংবা ‘সম্মান’ নেই।

সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম মানুষ খামেনিকে ঘৃণা করে। হয়তো এগুলো তাদের ভুয়ো কান্না।’

এরপর ট্রাম্প আরও দাবি করেন, শোকসভায় উপস্থিত ইরানের বাকি শীর্ষ নেতৃত্বকে যুক্তরাষ্ট্র চাইলে এক আঘাতেই নির্মূল করতে পারে। তার ভাষায়, ‘তারা সবাই সেখানে উপস্থিত আছে। মাত্র একটি আঘাতেই আমরা তাদের সবাইকে খতম করে দিতে পারি। তবে আমরা তা করব না, কারণ তাহলে আলোচনা করার মতো আর কেউ অবশিষ্ট থাকবে না।’

ট্রাম্পের এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আর্মেনিয়ায় অবস্থিত ইরানের দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) একটি পোস্ট প্রকাশ করে।

যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে করা ওই পোস্টে ট্রাম্প ও মার্কিন প্রশাসনকে উদ্দেশ করে বলা হয়, ‘মানুষকে হত্যা করা যায়, কিন্তু আদর্শকে নয়। আপনারা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে হত্যা করেছেন, কিন্তু বাস্তবে আপনারা একটি সুগন্ধির বোতল ভেঙে ফেলেছেন, যার সুবাস এখন সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে।’

মার্কিন সংস্কৃতিরও সমালোচনা করে ওই পোস্টে আরও বলা হয়, ‘আপনারা এসব বিষয় বুঝবেন না, কারণ আপনাদের কোনো সভ্যতা, ইতিহাস কিংবা সম্মান—কোনোটিই নেই।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরাইলি বিমান হামলায় পরিবারের কয়েকজন সদস্যসহ নিহত হন ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তার মৃত্যুর পর কয়েক দিন বিলম্বে তেহরানের মোসাল্লা প্রাঙ্গণে সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় জানাজা ও শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ওই অনুষ্ঠানে খামেনির উত্তরসূরি মোজতবা ছাড়া তার অপর তিন ছেলে এবং ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বর্তমানে তেহরানের মোসাল্লা প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রীয় সম্মানের সঙ্গে খামেনির মরদেহ রাখা হয়েছে। সেখানে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ছাড়াও ভারতসহ বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।

সরকারি সূচি অনুযায়ী, তেহরান, কোম, নাজাফ ও কারবালায় সপ্তাহব্যাপী শোকযাত্রা ও আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী ৯ জুলাই আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

/এসএন