• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:২৯ এএম


বিশ্বকাপ থেকে বিদায়, তবু মেক্সিকোর ভালোবাসায় হৃদয় ছুঁয়ে গেল ইরান

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৩০ জুন ২০২৬ ১০:১৫ পিএম

নানা লজিস্টিক জটিলতা, রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং নাটকীয় সব ঘটনার পর ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে ইরান। তবে টুর্নামেন্ট শেষ হলেও মেক্সিকোর সীমান্তবর্তী শহর তিজুয়ানার মানুষের ভালোবাসা ও আন্তরিকতা ইরানি ফুটবলারদের মনে আজীবন অমলিন হয়ে থাকবে।

বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর তিজুয়ানা ছাড়ার সময় স্থানীয় সমর্থকদের আবেগঘন বিদায়বার্তায় আপ্লুত হয়ে পড়ে পুরো ইরান দল।

শনিবার আলজেরিয়ার বিপক্ষে অস্ট্রিয়ার শেষ মুহূর্তের সমতাসূচক গোলের ফলে সেরা আটটি তৃতীয় স্থানধারী দলের তালিকা থেকে ছিটকে যায় ইরান। তাতেই শেষ হয়ে যায় তাদের বিশ্বকাপ অভিযান।

এর আগের দিনও নাটকীয়তার শেষ ছিল না। মিশরের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করা ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ইরানের করা জয়সূচক একটি গোল ভিএআরের সিদ্ধান্তে অফসাইড হওয়ায় নিজেদের ভাগ্য আর নিজেদের হাতে রাখতে পারেনি দলটি।

বিশ্বকাপজুড়ে ইরানকে খেলতে হয়েছে কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধাবস্থার কারণে ভিসা-সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগে নিজেদের বেসক্যাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা থেকে মেক্সিকোর তিজুয়ানায় সরিয়ে নেয় ইরান।

রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিটি ম্যাচ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কড়া নিরাপত্তার মধ্যে মেক্সিকো সীমান্তে ফিরে যেতে হতো ইরানি দলকে। ম্যাচগুলো নিরপেক্ষ কোনো দেশে আয়োজনের অনুরোধ জানালেও তা গ্রহণ করা হয়নি।

তবে তিজুয়ানায় পৌঁছানোর পর থেকেই সম্পূর্ণ ভিন্ন এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয় ইরান। স্থানীয় মানুষ উষ্ণ অভ্যর্থনায় বরণ করে নেয় দলটিকে। প্রতিটি ম্যাচের আগে ও পরে শত শত মেক্সিকান সমর্থক হোটেলের বাইরে ভিড় করতেন। কারও হাতে ছিল পোস্টার, কেউ অপেক্ষা করতেন প্রিয় ফুটবলারের অটোগ্রাফ বা একটি ছবির জন্য।

তিন সপ্তাহের এই আন্তরিক সম্পর্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। মেক্সিকোয় অবস্থিত ইরানের দূতাবাস এক্সে (সাবেক টুইটার) এক বার্তায় তিজুয়ানার মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়ে লিখেছে, তাদের ক্রীড়া সফরের পাশাপাশি প্রতিনিধি দল যে অন্যায্য আচরণের মুখোমুখি হয়েছিল, সেটিও সততার সঙ্গে তুলে ধরেছেন স্থানীয়রা। দূতাবাস জানায়, তিজুয়ানার মানুষের আন্তরিকতা তাদের মনে করিয়ে দিয়েছে যেন তারা নিজেদের ঘরেই অবস্থান করছেন। শহরটি ছেড়ে যাওয়া তাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন ছিল এবং এই বন্ধুত্ব ও স্মৃতি ইরানি ফুটবলারদের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবে।

বিশ্বকাপে ইরান দলের প্রতি আচরণের প্রসঙ্গ তুলে সারাজেভোভিত্তিক ইরানি দূতাবাসও ফিফার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, ভবিষ্যতে আয়োজক দেশ নির্বাচনের ক্ষেত্রে মানবিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, তিজুয়ানার রাস্তায় স্থানীয় ভক্তদের সঙ্গে হাসিমুখে ছবি তুলছেন ইরানি ফুটবলাররা এবং প্যানিনি স্টিকারে অটোগ্রাফ দিচ্ছেন। বিদায়ের দিন হোটেলের বাইরে অনেক মেক্সিকান সমর্থক বিশেষ ক্যাপ পরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সেই ক্যাপে লেখা ছিল—‘ইরান, ভাই আমার, তোমরা এখন মেক্সিকান।’

/এএসএফ