• ঢাকা
  • সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০১:৫৪ এএম


‘ধর্মীয় স্বাধীনতা হুমকিতে’ ভারতে আন্দোলনে নামছে মুসলিমরা

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২২ জুন ২০২৬ ৯:২৮ পিএম

ভারতের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দেশব্যাপী আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ড (এআইএমপিএলবি)।সোমবার (২২ জুন) অনুষ্ঠিত সংগঠনটির কার্যনির্বাহী পরিষদের বৈঠকে মুসলিম সম্প্রদায়ের অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা, মসজিদ ও মাদরাসা সংরক্ষণ এবং বিভিন্ন রাজ্যে গৃহীত নীতিগত পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

বৈঠক শেষে বোর্ডের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, বিজেপি-শাসিত কয়েকটি রাজ্যে মুসলমানদের বিরুদ্ধে গণপিটুনি, মসজিদ ও মাদরাসা উচ্ছেদ, বাড়িঘরে বুলডোজার অভিযান এবং ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড দেশের সামাজিক সম্প্রীতি, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সামগ্রিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি বলে মন্তব্য করেন সংগঠনের নেতারা।বোর্ড জানায়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলমানদের সাংবিধানিক ও ধর্মীয় অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার অভিযোগ নিয়ে একটি তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।

নেতাদের মতে, বিষয়টি কেবল একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষার প্রশ্ন নয়; বরং ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামো ও সামাজিক ঐক্যের সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পৃক্ত।মধ্যপ্রদেশের কামাল মওলা মসজিদ-ভোজশালা সংক্রান্ত মামলায় উচ্চ আদালতের সাম্প্রতিক রায় নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে এআইএমপিএলবি। সংগঠনটির দাবি, রায়টি ঐতিহাসিক দলিল, সরকারি নথি এবং দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে চলমান মামলায় সংশ্লিষ্ট মসজিদ কমিটিকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।এছাড়া বিভিন্ন রাজ্যে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগের সমালোচনা করেছে বোর্ড। তাদের মতে, কোনো নাগরিক বা শিক্ষার্থীর ওপর ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো বিষয় চাপিয়ে দেওয়া সংবিধানপ্রদত্ত ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিপন্থী। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের স্কুল ও সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত মাদরাসাগুলোতে এ ধরনের নির্দেশনা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে মাদরাসায় ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার সরকারি নির্দেশনার ওপর কলকাতা হাইকোর্টের দেওয়া অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশকে স্বাগত জানিয়েছে সংগঠনটি। বোর্ডের নেতাদের দাবি, গানটির কিছু অংশ মুসলমানদের একত্ববাদী ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।সভায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউনিফর্ম সিভিল কোড) বাস্তবায়নের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধেও নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বোর্ড। তাদের বক্তব্য, এ ধরনের উদ্যোগ ধর্মীয় স্বাধীনতার সাংবিধানিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং ভারতের বহুত্ববাদী সমাজব্যবস্থার পরিপন্থী।

উত্তরাখণ্ডে এ সংক্রান্ত আইনের বিরুদ্ধে চলমান আইনি লড়াইয়ের মতো অন্যান্য রাজ্যেও প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।মুসলমানদের অধিকার রক্ষা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সংরক্ষণ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে দেশব্যাপী গণআন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছে বোর্ড।

এ লক্ষ্যে একটি বিশেষ কর্মপরিষদ গঠনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।বোর্ডের সভাপতি মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ রাহমানি-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠক পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ ফজলুর রহিম মুজাদ্দেদি। বৈঠকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আলেম, আইনজীবী, সমাজনেতা এবং বোর্ডের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা অংশ নেন। পরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরা হয়।

/বিএসএস