• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৩৮ এএম


‘একবেলা না খেয়ে হলেও প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ান’—এনসিপি সাংসদ মুজাহিদ

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২০ জুন ২০২৬ ৩:০৭ পিএম

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে ‘বিশাল ঘাটতির’ এবং ‘সাদা হাতির বাজেট’ আখ্যা দিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান মুজাহিদ।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি জানান। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

প্রতিরক্ষা খাতের বর্তমান বরাদ্দ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে মুজাহিদ বলেন, চলতি বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে ৪২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা পরিচালনা ব্যয়ে চলে যাবে। ফলে আধুনিকায়নের জন্য অবশিষ্ট থাকে মাত্র ৭ হাজার কোটি টাকা।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, “মাত্র ৭ হাজার কোটি টাকা দিয়ে কি আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন সম্ভব? দেশের চারপাশের সীমান্তে প্রতিনিয়ত নানা ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। পঞ্চগড়, হিলি, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা থেকে শুরু করে দক্ষিণের ফেনী এবং চিকেন নেক ইস্যুতেও আমরা হুমকির মুখে রয়েছি। দেশের সার্বভৌমত্ব যখন চ্যালেঞ্জের মুখে, তখন এই বাজেট যথেষ্ট নয়।”

মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতি ও পার্বত্য চট্টগ্রামের নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় সংঘাত চলছে। পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামে কুকি-চিনসহ একাধিক বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর দুটি ডিভিশন কাজ করছে।

নৌ ও বিমান বাহিনীর সক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার ভাষ্য, বঙ্গোপসাগরে বর্তমানে দেশের হাতে মাত্র দুটি পুরনো ফ্রিগেট রয়েছে, যেখানে অন্তত এক ডজন আধুনিক ফ্রিগেট প্রয়োজন। একইভাবে আকাশ প্রতিরক্ষায় এখনও এফ-৭ ও মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা হচ্ছে, যেগুলোর নকশা কয়েক দশক আগের।

তিনি বলেন, “ভারত ও মিয়ানমার তাদের জিডিপির আড়াই থেকে সাড়ে তিন শতাংশ পর্যন্ত প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করে। সেখানে আমাদের অবস্থান অনেক নিচে।”

বক্তব্যের একপর্যায়ে আবেগঘন কণ্ঠে মুজাহিদ বলেন, “এই স্বাধীন দেশকে রক্ষা করার জন্য বাংলার হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সবাইকে যদি একবেলা না খেয়েও থাকতে হয়, তবুও স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমাদের বাজেট বাড়িয়ে দিন।”

এ সময় বাজেটে খাতভিত্তিক বরাদ্দের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। সংবিধানের ৮৯ ও ৯০ অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে বলেন, বাজেটে প্রতিটি ব্যয়ের খাত স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকা উচিত। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে প্রায় ৪৭ থেকে ৪৮ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার নির্দিষ্ট খাত উল্লেখ নেই।

তার দাবি, এ ধরনের বরাদ্দ সংবিধানের চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি বলেন, “আমি মনে করি, এই অর্থের একটি বড় অংশ প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ দেওয়া উচিত, যাতে দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব আরও শক্তিশালী করা যায়।”

/এএসএফ