রাঙামাটিতে টানা বৃষ্টি ও বন্যার পানি কমতে শুরু করায় আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন দুর্গত মানুষ। একই সঙ্গে ধীরে ধীরে সামনে আসছে বন্যায় হওয়া ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। শনিবার (১১ জুলাই) সকাল থেকে জেলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বাঘাইছড়ি ও বিলাইছড়ির ফারুয়া এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও বরকল ও জুরাছড়ির কিছু এলাকায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সেখানকার মানুষের দুর্ভোগ অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, টানা বৃষ্টিতে গাছ উপড়ে পড়া ও পানিতে ডুবে জেলায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বাঘাইছড়ি পৌরসভার বাড়বিন্দু ঘাট এলাকায় বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এতে পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ড এবং ৮টি ইউনিয়নের প্রায় সব গ্রাম পানিতে তলিয়ে যায়। এখনো অনেক দুর্গত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছায়নি এবং বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। শনিবার বিকেল পর্যন্ত উপজেলার আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে প্রায় ২ হাজার ৪০০ মানুষ অবস্থান করছেন।
বাঘাইছড়ির মাস্টারপাড়ার বাসিন্দা মো. হামিদ বলেন, “যারা আশ্রয়কেন্দ্রে গেছেন তারা ত্রাণ বা রান্না করা খাবার পেয়েছেন। কিন্তু যারা ঘর ছেড়ে যেতে পারেননি, তাদের খোঁজ নেয়নি প্রশাসন।”
অন্যদিকে বরকল উপজেলায় পাহাড়ি ঢলে তিন শতাধিক ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। তীব্র স্রোতের কারণে নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এছাড়া বাঘাইছড়িতে প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক ভেঙে যাওয়ায় উপজেলা সদরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নে বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে একটি পোলট্রি খামার। সাদেক পোল্ট্রি ফার্মের মালিক মো. সাদেক জানান, বিক্রির জন্য প্রস্তুত প্রায় দেড় হাজার মুরগি পানিতে মারা গেছে। এতে তার পাঁচ লাখ টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে।
রাঙামাটি কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় ৩ হাজার ৪৯৫ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৭১৭ হেক্টর ধানের জমি রয়েছে।
রাঙামাটি মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জানান, জেলার ২০টি ইউনিয়নের ৭৬টি পুকুর ও মাছের ঘের থেকে মাছ ভেসে যাওয়ায় প্রায় ১ কোটি ৭২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বাঘাইছড়ি উপজেলায়।
রাঙামাটি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা বলেন, পাহাড়ধসে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়কের প্রায় দুই কিলোমিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে।
বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মাহজানা বলেন, গত দুই দিন বৃষ্টি না হওয়ায় মানুষ ধীরে ধীরে আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন। বর্তমানে উপজেলার ২১টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৪৭১টি পরিবারের ১ হাজার ৯২৮ জন মানুষ অবস্থান করছেন। তিনি জানান, যারা আশ্রয়কেন্দ্রে আসতে পারেননি, তাদের কাছেও রান্না করা খাবার ও শুকনো খাদ্য পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
/এএসএফ