• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৫ এএম


মেসি-এমবাপ্পেকে পেছনে ফেলে নতুন উচ্চতায় ইয়ামাল

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ৩:৪০ পিএম

মেসি-এমবাপ্পেকে পেছনে ফেলে নতুন উচ্চতায় ইয়ামাল

বার্সেলোনার জার্সিতে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন স্প্যানিশ তরুণ ফুটবলার লামিন ইয়ামাল। চলতি মৌসুমে গোল ও অ্যাসিস্টে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে ইউরোপীয় ফুটবলে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন এই ফরোয়ার্ড। মাত্র ১০ ম্যাচে ৮ গোল ও ৯টি অ্যাসিস্টসহ মোট ১৭টি গোলে অবদান রেখেছেন তিনি।ইয়ামালের এই পারফরম্যান্সের পর ফুটবলবিশ্বে নতুন করে শুরু হয়েছে লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে তাঁর তুলনা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বার্সেলোনার হয়ে মেসির প্রথম ১০ ম্যাচে গোল অবদান ছিল ১৪টি—৮ গোল ও ৬ অ্যাসিস্ট। অন্যদিকে, ১৯ বছর বয়সে এমবাপ্পের প্রথম ১০ ম্যাচে গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে অবদান ছিল ১৬টি। সেই হিসাবে একই সংখ্যক ম্যাচে দুজনকেই ছাড়িয়ে গেছেন ইয়ামাল।তবে ইয়ামালের উত্থান নতুন নয়। ২০২৩-২৪ মৌসুমে মাত্র ১৬ বছর বয়সে বার্সেলোনার মূল দলে জায়গা করে নিয়ে নিজের প্রতিভার জানান দেন তিনি। এরপর ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন এই স্প্যানিশ তারকা।ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে ইয়ামালব্যালন ডি’অর জয়ের ইচ্ছার কথাও প্রকাশ করেছেন ইয়ামাল। তবে এই পুরস্কারের দৌড়ে তাঁর সামনে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন।রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ধারাবাহিকভাবে গোল করছেন এমবাপ্পে। ২০২৪ সালে প্যারিস সেন্ট জার্মেই ছেড়ে স্প্যানিশ ক্লাবটিতে যোগ দেওয়ার আগে ফরাসি ক্লাবটির হয়ে দুর্দান্ত সময় কাটান তিনি। ইউরোপীয় ফুটবলে তাঁর পারফরম্যান্সও ব্যালন ডি’অরের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।মেসির সঙ্গে ইয়ামালের তুলনাবার্সেলোনার ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় মেসির সঙ্গে ইয়ামালের তুলনা নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। তবে পুরো ক্যারিয়ার বিবেচনায় দুজনকে তুলনা করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। বয়স, অভিজ্ঞতা ও অর্জনের দিক থেকে তাঁদের পথচলা ভিন্ন হলেও কিছু পরিসংখ্যানে মিল রয়েছে।মেসি ২০১২-১৩ মৌসুমে লা লিগায় নিজেদের প্রথম পাঁচ ম্যাচে একাধিক গোল করার কীর্তি গড়েছিলেন। ইয়ামালও চলতি মৌসুমে একই ধরনের কৃতিত্ব দেখিয়েছেন।মেসির সঙ্গে ইয়ামালের সম্পর্ক নিয়েও অতীতে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ২০০৭ সালে বার্সেলোনার একটি ফটোশুটে শিশু ইয়ামালকে কোলে নিয়ে ছবি তুলেছিলেন মেসি। তখন মেসির বয়স ছিল ২০ বছর, আর ইয়ামালের বয়স মাত্র পাঁচ মাস। ছবিটি পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হয়। শুরুতে অনেকে ছবিটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি বলে ধারণা করলেও পরে এর সত্যতা সামনে আসে।ইয়ামালের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ বার্সা কোচইয়ামালের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ বার্সেলোনার কোচ হান্সি ফ্লিকও। গালাতাসারাইয়ের বিপক্ষে ৪-১ গোলের জয়ের পর দলের এই তরুণ তারকার প্রশংসা করেন তিনি।ফ্লিকের ভাষ্য অনুযায়ী, অনুশীলনে ইয়ামাল যেভাবে সুযোগ তৈরি করেন, ম্যাচেও তার প্রতিফলন দেখা যায়। দলের অন্য খেলোয়াড়েরাও তাঁর দিকে তাকিয়ে থাকেন বলে মন্তব্য করেন বার্সা কোচ।তিনি আরও বলেন, এমন একজন খেলোয়াড় দলে থাকা দারুণ ব্যাপার। ইয়ামাল দলের জন্য ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য রাখেন।মাত্র ১৯ বছর বয়সেই ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে বার্সেলোনার গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হয়ে উঠেছেন ইয়ামাল। গোল, অ্যাসিস্ট ও মাঠে প্রভাবের কারণে তাঁকে ঘিরে প্রত্যাশাও বাড়ছে। তবে মেসি ও এমবাপ্পের সঙ্গে তুলনার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে নিজের অর্জন ধরে রাখাই হবে এই তরুণ তারকার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

/বিএসএস