• ঢাকা
  • সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৭ পিএম


তিন মহাদেশে ২০৩০ বিশ্বকাপ, স্বাগতিক হিসেবে সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে যে ৬ দেশ!

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৭ জুলাই ২০২৬ ৪:২৭ পিএম

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের উত্তেজনা চললেও ফুটবলপ্রেমীদের নজর ধীরে ধীরে ঘুরতে শুরু করেছে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপের দিকে। কারণ, সেই আসরটি শুধু আরেকটি বিশ্বকাপ নয়; এটি হবে ফুটবল বিশ্বকাপের শতবর্ষ উদ্‌যাপনের বিশেষ আয়োজন। আর এই ঐতিহাসিক টুর্নামেন্টে স্বাগতিক হওয়ার সুবাদে ইতোমধ্যেই সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে ছয়টি দেশ—স্পেন, পর্তুগাল, মরক্কো, উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়ে।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তিনটি মহাদেশজুড়ে অনুষ্ঠিত হবে এই আসর। মূল আয়োজনের দায়িত্ব পালন করবে ইউরোপের স্পেন ও পর্তুগাল এবং আফ্রিকার মরক্কো। অন্যদিকে, ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপের আয়োজক উরুগুয়েকে সম্মান জানিয়ে শতবর্ষ উদ্‌যাপনের অংশ হিসেবে উদ্বোধনী পর্বের তিনটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে দক্ষিণ আমেরিকার উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েতে।

ফিফার বিশেষ এই সিদ্ধান্তের ফলে ছয়টি দেশই স্বাগতিকের মর্যাদা পেয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী তারা সবাই বাছাইপর্ব ছাড়াই সরাসরি ২০৩০ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে।

২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ফিফা কংগ্রেসে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোকে যৌথভাবে ২০৩০ বিশ্বকাপের মূল আয়োজক হিসেবে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়। যদিও এই আয়োজনের বিডিং প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল ২০২০ সালের অক্টোবরে এবং শেষ হয় ২০২৩ সালের অক্টোবরে।

শুরুর দিকে মরক্কো এককভাবে বিশ্বকাপ আয়োজনের পরিকল্পনা করলেও পরে স্পেন ও পর্তুগালের সঙ্গে যৌথ প্রস্তাব জমা দেয়। শেষ পর্যন্ত সেটিই একমাত্র বৈধ বিড হিসেবে অনুমোদন পায়।

বিশ্বকাপের শতবর্ষকে স্মরণীয় করে তুলতেই পরে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করে ফিফা। ১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপ আয়োজনকারী উরুগুয়ের ঐতিহাসিক অবদানকে সম্মান জানিয়ে উদ্বোধনী পর্বের তিনটি ম্যাচ দক্ষিণ আমেরিকায় আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর অংশগ্রহণকারী দলগুলো ইউরোপ ও আফ্রিকায় গিয়ে টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলো খেলবে।

শতবর্ষের বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণ হবে উরুগুয়ের রাজধানী মন্টেভিডিওর ঐতিহাসিক এস্তাদিও সেন্টেনারিও স্টেডিয়াম। ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছিল এই মাঠেই। বিশেষ আয়োজনের অংশ হিসেবে শতবর্ষের বিশ্বকাপেও একটি উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে এই স্টেডিয়ামে।

অন্য দুটি উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনেস এইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্টাল এবং প্যারাগুয়ের রাজধানী আসুনসিওনের এস্তাদিও ওসভালদো ডোমিঙ্গেজ দিব স্টেডিয়ামে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল সংস্থা কনমেবল-এর সদর দপ্তরও আসুনসিওনেই অবস্থিত।

২০৩০ সালের বিশ্বকাপ তাই শুধু একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের শতবর্ষের ইতিহাস উদ্‌যাপনের এক অনন্য আয়োজন হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

/এএসএফ