পবিত্র কোরআনের ১১২তম সুরা সুরা ইখলাস। মক্কায় অবতীর্ণ এই সুরার আয়াত সংখ্যা চারটি। ছোট হলেও সুরাটির ফজিলত ও মর্যাদা অত্যন্ত বেশি। হাদিসে সুরা ইখলাসকে কোরআনের এক-তৃতীয়াংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা কোরআনকে তিন ভাগে ভাগ করেছেন। এরপর ‘কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’-কে করেছেন কোরআনের ভাগগুলোর একটি।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮১১)এক রাতে কোরআনের এক-তৃতীয়াংশ তেলাওয়াত করা অনেকের জন্য কঠিন হতে পারে। তবে সুরা ইখলাস তেলাওয়াতের মাধ্যমে কোরআনের এক-তৃতীয়াংশ তেলাওয়াতের সমপরিমাণ সওয়াবের ফজিলত অর্জনের কথা হাদিসে এসেছে।আবু সাইদ খুদরি (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের উদ্দেশে বললেন, ‘তোমাদের কেউ কি এক রাতে কোরআনের এক-তৃতীয়াংশ তেলাওয়াত করা দুঃসাধ্য মনে করো?’ প্রশ্নটি সাহাবিদের কাছে কঠিন মনে হলো। তারা বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, আমাদের মধ্যে কার সাধ্য আছে এমনটি করার?’তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ (সুরা ইখলাস) কোরআনের এক-তৃতীয়াংশ।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪৭২৭)অন্য এক হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) একবার সাহাবিদের বললেন, ‘তোমরা জমায়েত হও, আমি তোমাদের সামনে কোরআনের এক-তৃতীয়াংশ পাঠ করব।’ এরপর যাদের পক্ষে সম্ভব তারা একত্রিত হলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বের হয়ে এসে তেলাওয়াত করে আবার ঘরে প্রবেশ করলেন।তখন সাহাবিদের একজন আরেকজনকে বলতে লাগলেন, ‘মনে হয় আসমান থেকে এখনই কোনো সংবাদ এসেছে, আর সে কারণেই তিনি ঘরে প্রবেশ করেছেন।’ পরে রাসুলুল্লাহ (সা.) বের হয়ে এসে বললেন, ‘আমি তোমাদের বলেছিলাম যে, তোমাদের সামনে কোরআনের এক-তৃতীয়াংশ পাঠ করব। শোনো, সুরা ইখলাস কোরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮১২)সুরা ইখলাসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এতে আল্লাহ তাআলার গুণাবলি ও একত্বের বর্ণনা রয়েছে। এ কারণেও সুরাটির বিশেষ মর্যাদা রয়েছে।আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) এক সাহাবিকে একটি মুজাহিদ দলের প্রধান করে অভিযানে পাঠান। ওই সাহাবি নামাজে ইমামতি করার সময় সুরা ইখলাস দিয়ে নামাজ শেষ করতেন।অভিযান থেকে ফিরে মুজাহিদরা বিষয়টি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে জানালে তিনি বলেন, ‘তাকেই জিজ্ঞাসা করো কেন সে এই কাজ করেছে।’তাকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, এই সুরায় আল্লাহ তাআলার গুণাবলি রয়েছে। তাই এই সুরা তেলাওয়াত করতে তিনি বেশি পছন্দ করেন।এ কথা শুনে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তাকে জানিয়ে দাও, আল্লাহ তাআলাও তাকে পছন্দ করেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪৭২৬)তাই ঘুমানোর আগে কিংবা দিনের অন্য যেকোনো সময়ে সুরা ইখলাস তেলাওয়াত করা যেতে পারে। মাত্র চার আয়াতের এই সুরার মধ্যে রয়েছে আল্লাহর একত্ব ও গুণাবলির গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা এবং হাদিসে বর্ণিত বিশেষ ফজিলত।
/বিএসএস