• ঢাকা
  • বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৭ পিএম


‘বড় ভাবি মায়ের মতো’-কথাটি কি সত্য? যা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২ অক্টোবর ২০২৬ ১১:৪৫ পিএম

আমাদের সমাজে প্রচলিত একটি কথা হলো—বড় ভাবি অর্থাৎ বড় ভাইয়ের স্ত্রী মায়ের মতো। অনেক পরিবারে বড় ভাইয়ের স্ত্রীকে ছোট ভাই-বোনদের প্রতি স্নেহ, মমতা ও দায়িত্বশীলতার কারণে মায়ের মর্যাদা দেওয়া হয়। তবে ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে বড় ভাবিকে মায়ের মতো বলা হয়েছে কি না, বিশেষ করে পর্দার বিধানের ক্ষেত্রে এর কোনো ভিত্তি আছে কি না—এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।এ বিষয়ে কথা বলেছেন ইসলামী আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ।তিনি বলেন, আমাদের সমাজে বড় ভাবিদের অনেক অবদান থাকে দেবর-ননদদের প্রতি। ভাবিদের স্নেহ-মমতা এবং দেবর-ননদদের প্রতি অনেক ছাড় দেওয়ার কারণে অনেকে তাদের মায়ের মর্যাদা দেন বা মায়ের আসনে আসীন করেন। এটি একটি ভিন্ন বিষয়। কিন্তু ইসলামী শরিয়ায় যে পর্দার বিধিবিধান রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে বড় ভাবিকে কুরআন ও হাদিসের কোথাও মায়ের মতো বলা হয়নি।শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, মায়ের সঙ্গে যেভাবে পর্দা করতে হয় না বা দেখা দেওয়া যায়, বড় ভাবির ক্ষেত্রেও দেবরের জন্য একই ধরনের বিধান প্রযোজ্য—এমন কোনো কথা কুরআন ও হাদিসে বলা হয়নি। বরং এর বিপরীত নির্দেশনাই পাওয়া যায়।তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (স.)-কে যখন জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি ভাবিদের ক্ষেত্রে তাদের দেবরদের ‘মৃত্যু’র সঙ্গে তুলনা করেছেন। একইভাবে পুরুষদের জন্য তাদের শ্যালিকাদের ক্ষেত্রেও সতর্কতার কথা বলা হয়েছে।শায়খ আহমাদুল্লাহ ব্যাখ্যা করে বলেন, বড় ভাবি যদি সার্বিকভাবে মায়ের মতো হতেন এবং তার সঙ্গে পর্দার বিধান প্রযোজ্য না হতো, তাহলে দেবরের জন্য তাকে ‘মৃত্যু’র মতো বলা হতো না। মৃত্যু থেকে মানুষ পলায়ন করে এবং দূরে থাকার চেষ্টা করে। দেবরের জন্য ভাবিকে, ভাবির জন্য দেবরকে এবং দুলাভাইয়ের জন্য শ্যালিকাকে ‘মৃত্যু’ বলার মাধ্যমে তাদের মধ্যে প্রয়োজনীয় দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টি বোঝানো হয়েছে। কারণ এ ধরনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ফিতনার আশঙ্কা বেশি থাকে।তিনি আরও বলেন, বড় ভাবিকে তথাকথিত মায়ের মতো মনে করে বিভিন্ন ধরনের অনাচারের সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং এ কারণে অনেক দুর্ঘটনাও ঘটেছে। বিষয়টি সম্পর্কে কম-বেশি সবাই অবগত।এ কারণে ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গি হলো—বড় ভাইয়ের স্ত্রী কিংবা ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর সঙ্গে পর্দার বিধান যথাযথভাবে পালন করতে হবে। অন্য নারীদের ক্ষেত্রে যেভাবে পর্দা করতে হয়, তাদের ক্ষেত্রেও সেই বিধান প্রযোজ্য।শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, অনেকে মনে করেন, ভাসুর কিংবা দেবর হিসেবে ছোট ভাবির সঙ্গে হয়তো পর্দার বিধান নেই। এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। বরং ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে এ ধরনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে পর্দার বিধান আরও গুরুত্বের সঙ্গে মেনে চলা প্রয়োজন।একইভাবে পুরুষদের জন্য তাদের শ্যালিকা কিংবা স্ত্রীর বড় বোনের সঙ্গেও পর্দার বিধান রয়েছে। অন্য নারীদের তুলনায় এ ধরনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। কারণ এসব সম্পর্কের ক্ষেত্রে ফিতনার সুযোগ ও সম্ভাবনা বেশি থাকে এবং শয়তান মানুষকে বিপথে নেওয়ার সুযোগ পেতে পারে।

/বিএসএস