• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম


‘সালাম’ নিয়ে মুসলমানদের কেন গর্ব করা উচিত

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২ অক্টোবর ২০২৬ ৪:৫১ পিএম

ইসলামি সুন্নাহ অনুযায়ী, মুসলমানদের পরস্পরের সঙ্গে দেখা হলে সালাম বিনিময় করা উচিত। ‘আসসালামু আলাইকুম’ অর্থ—‘আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।’ এর মাধ্যমে একজন মুসলমান অন্যজনের জন্য শান্তি ও কল্যাণ কামনা করেন। সালাম শুধু একটি সম্ভাষণ নয়; বরং এটি মুসলিম পরিচয়, শান্তি ও একত্ববাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ।সালামের মাধ্যমে অন্য একজন মুসলমানের কল্যাণ কামনা করা হয় এবং তার জন্য আল্লাহর কাছে শান্তি প্রার্থনা করা হয়। মুসলিম সমাজে পারস্পরিক কুশল বিনিময়ের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো সালাম।কেন সালাম দেওয়া উচিতবন্ধু-বান্ধব, পরিচিতজন, পরিবারের সদস্য ও সমাজের অন্য মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য প্রতিটি জনগোষ্ঠীর নিজস্ব কুশল বিনিময়ের রীতি রয়েছে। ইসলামে সেই কুশল বিনিময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো সালাম।অনেকেই বর্তমানে কুশল বিনিময়ের ক্ষেত্রে ‘হাই’, ‘বাই’, ‘গুড মর্নিং’, ‘গুড আফটারনুন’, ‘গুড ইভিনিং’ কিংবা ‘গুড নাইট’-এর মতো শব্দ ব্যবহার করেন। তবে মুসলমানদের মধ্যে দেখা হলে ইসলামি সম্ভাষণ হিসেবে সালাম বিনিময়ের রীতি রয়েছে।সালাম দেওয়া হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নত। তাই মুসলমানদের মধ্যে সালামের প্রচলন পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ্য ও ধর্মীয় পরিচয়কে আরও দৃঢ় করতে পারে।কুশল বিনিময় ও বিদায়ের জন্য মুসলমানদের নিজস্ব একটি সুন্দর রীতি রয়েছে। অন্য মুসলমানের সঙ্গে দেখা হলে সালামের মাধ্যমে কুশল বিনিময় করা এবং বিদায়ের সময়ও সালাম দেওয়া সেই রীতির অংশ।অন্য ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময়ের ক্ষেত্রে তাদের প্রচলিত সম্ভাষণ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে মুসলমানদের পারস্পরিক যোগাযোগে সালামকে অগ্রাধিকার দেওয়া ইসলামি সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) বর্ণনা করেন, হজরত মুহাম্মদ (সা.) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করার পর অনুসারীদের প্রথম দিকের উপদেশগুলোর মধ্যে ছিল—অনাহারীকে খাবার খাওয়ানো, সালাম ছড়িয়ে দেওয়া, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা এবং মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন নামাজ আদায় করা। এসব আমলের মাধ্যমে শান্তিতে জান্নাতে প্রবেশের কথা বলা হয়েছে। (সহিহ বুখারি)‘আসসালামু আলাইকুম’ অর্থ কী‘আসসালামু আলাইকুম’ অর্থ ‘আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক’। অর্থের দিক থেকেও এটি একটি সুন্দর ও কল্যাণকামী সম্ভাষণ। একজন মুসলমান যখন অন্য মুসলমানকে সালাম দেন, তখন মূলত তার জন্য শান্তি ও কল্যাণের দোয়া করেন।ইসলামি ঐতিহ্যে ‘সালাম’-এর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। তাই মুসলমানদের কাছে এটি সাধারণ সামাজিক সৌজন্য বিনিময়ের চেয়ে বেশি তাৎপর্যপূর্ণ।অনেকেই বিদায়ের সময় ‘গুডবাই’ বা ‘বাই’ শব্দ ব্যবহার করেন। ‘গুডবাই’ শব্দটির উৎপত্তি ঐতিহাসিকভাবে ‘God be with you’ ধরনের একটি আশীর্বাদমূলক বাক্য থেকে হয়েছে বলে ভাষাতাত্ত্বিকভাবে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে এটি সংক্ষিপ্ত হয়ে ‘goodbye’ রূপ নেয়।তাই কোনো শব্দ ব্যবহার করলেই কেউ ধর্মনিরপেক্ষ হয়ে যান—এমন সরল সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। শব্দের উৎপত্তি, ব্যবহার ও বর্তমান অর্থ—এসব বিষয় আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। তবে মুসলমানদের জন্য নিজেদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সম্ভাষণ হিসেবে সালাম ব্যবহার করার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।সালাম কীভাবে মুসলিম পরিচয়কে জোরদার করেমুসলমানদের জন্য সালাম শুধু একটি শব্দ নয়; এটি পারস্পরিক শান্তি, ভ্রাতৃত্ব ও শুভকামনার প্রকাশ। কারও সঙ্গে সাক্ষাৎ বা বিদায়ের সময় ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলা মুসলিম সমাজের একটি সুপরিচিত ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক রীতি।নিজস্ব ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের চর্চা মানুষের আত্মপরিচয়কে দৃঢ় করতে পারে। সে কারণে মুসলমানদের পারস্পরিক যোগাযোগে সালামকে গুরুত্ব দেওয়া তাদের ধর্মীয় ঐতিহ্য ও পরিচয়ের প্রতি সম্মান প্রকাশের একটি মাধ্যম হতে পারে।

/বিএসএস