• ঢাকা
  • সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:১২ পিএম


আত্মশুদ্ধি ও শান্তির বার্তা নিয়ে আজ শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ১২:৪৯ পিএম

বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা আজ রোববার (২৫ অক্টোবর)। আশ্বিনী পূর্ণিমা নামেও পরিচিত এই তিথি বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। তাঁদের বিশ্বাস, প্রবারণা পূর্ণিমা পালনের মধ্য দিয়ে ভিক্ষু ও গৃহীদের পাপমোচন হয়।

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, এই পুণ্যময় পূর্ণিমা তিথিতে মহামানব গৌতম বুদ্ধ তাবতিংস স্বর্গে মাতৃদেবীকে অভিধর্ম দেশনা দেওয়ার পর ভারতের সাংকাশ্য নগরে অবতরণ করেন। একই দিনে মানবজাতির সুখ, শান্তি ও কল্যাণের উদ্দেশ্যে স্বধর্ম প্রচারের জন্য ভিক্ষু সংঘকে নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। এদিনই তাঁর তিন মাসব্যাপী বর্ষাবাসের সমাপ্তি ঘটে।

পূজনীয় ভিক্ষু সংঘের তিন মাসের বর্ষাব্রত শেষ হওয়ার পর আসে প্রবারণা পূর্ণিমা। প্রবারণা মূলত আত্মশুদ্ধি, অশুভকে পরিহার এবং সত্য ও সুন্দরকে গ্রহণের একটি ধর্মীয় আয়োজন। এই পূর্ণিমার পরদিন থেকে এক মাসব্যাপী দেশের বিভিন্ন বৌদ্ধবিহারে শুরু হবে শুভ কঠিন চীবর দানোৎসব।

রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় অবস্থিত আন্তর্জাতিক বৌদ্ধবিহারের আমন্ত্রণপত্রে জানানো হয়েছে, প্রবারণা পূর্ণিমার মধ্য দিয়ে ভিক্ষু সংঘের তিন মাসের বর্ষাবাস শেষ হবে। এর পরদিন সোমবার থেকে শুরু হবে মাসব্যাপী কঠিন চীবর দান।

প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে বুদ্ধপূজা, সংঘদান, পিণ্ডদান, অষ্টপরিষ্কার দান, পঞ্চশীল প্রার্থনা, শীল গ্রহণ, প্রদীপপূজা ও ফানুস ওড়ানোসহ বিভিন্ন ধর্মীয় আচার পালন করা হবে।

উৎসবটি ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও যথাযথ মর্যাদায় উদ্‌যাপনের লক্ষ্যে রাজধানীর আন্তর্জাতিক বৌদ্ধবিহারে দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট ফেডারেশন।

কর্মসূচির সূচনা হবে ভোর সাড়ে ৫টায় সমবেত প্রভাতি বন্দনার মধ্য দিয়ে। সকাল ৭টা ১০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে ভিক্ষু সংঘের প্রভাতি পিণ্ড গ্রহণ। এরপর সকাল সাড়ে ৯টায় বুদ্ধপূজা, শীল গ্রহণ এবং অষ্টউপকরণসহ মহাসংঘদান অনুষ্ঠিত হবে। বেলা ১১টা ৫ মিনিটে রয়েছে ভিক্ষু সংঘের পিণ্ডদানের আয়োজন।

বিকেল ৪টা ১ মিনিটে পবিত্র ত্রিপিটক থেকে সূত্র পাঠ করা হবে। এর পর বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে ‘প্রবারণা পূর্ণিমার তাৎপর্য ও বিশ্ব মানবতা’ শীর্ষক আলোচনা সভা।

সন্ধ্যার কর্মসূচি শুরু হবে ৬টায়। এ সময় শীল গ্রহণ, আলোকসজ্জা এবং ফানুসবাতি উৎসর্গের আয়োজন থাকবে। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শুরু হবে ফানুস উৎসব।

ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, প্রার্থনা, আলোচনা সভা ও ফানুস উৎসবের মধ্য দিয়ে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষ দিনটি উদ্‌যাপন করবেন।

/এসএন