সাপ্তাহিক ইবাদতের মধ্যে জুমার নামাজ মুসলিম উম্মাহর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতি শুক্রবার জামে মসজিদে মুসল্লিরা একত্রিত হয়ে ইমামের নেতৃত্বে জামাতের সঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করেন এবং নামাজের আগে খুতবা শোনেন। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, যথাযথভাবে জুমার নামাজ আদায় করলে আল্লাহ তাআলা বান্দার বিগত এক সপ্তাহের গুনাহসহ অতিরিক্ত আরও তিন দিনের গুনাহ ক্ষমা করে দেন।
ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী জুমার ফরজ নামাজ ২ রাকাত। এ বিষয়ে ইসলামী ফিকহবিদদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই।
ফরজ নামাজ ছাড়াও সুন্নাত নামাজ রয়েছে। সাধারণভাবে অধিকাংশ মুসল্লি আদায় করেন—
এভাবে মোট ১০ রাকাত নামাজ আদায় করা হয়ে থাকে। তবে ফরজের আগে সুন্নাতের রাকাত সংখ্যা নিয়ে ফিকহি মতপার্থক্য রয়েছে। কেউ ২ রাকাত, আবার কেউ ৪ রাকাত সুন্নাত আদায় করেন। তবে ফরজ ২ রাকাত—এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই।
শুক্রবার জোহরের নামাজের পরিবর্তে জামাতের সঙ্গে যে ফরজ নামাজ আদায় করা হয়, সেটিই জুমার নামাজ। সময় জোহরের সময় হলেও এর বিধান ও পদ্ধতিতে কিছু পার্থক্য রয়েছে।
আল্লাহ তাআলা কোরআনে ইরশাদ করেছেন—
يٰۤاَيُّهَا الَّذِيۡنَ اٰمَنُوۡۤا اِذَا نُوۡدِيَ لِلصَّلٰوةِ مِنۡ يَّوۡمِ الۡجُمُعَةِ فَاسۡعَوۡا اِلٰى ذِكۡرِ اللّٰهِ وَذَرُوا الۡبَيۡعَۚ ذٰلِكُمۡ خَيۡرٌ لَّكُمۡ اِنۡ كُنۡتُمۡ تَعۡلَمُوۡنَ فَاِذَا قُضِيَتِ الصَّلٰوةُ فَانۡتَشِرُوۡا فِي الۡاَرۡضِ وَابۡتَغُوۡا مِنۡ فَضۡلِ اللّٰهِ وَاذۡكُرُوا اللّٰهَ كَثِيۡرًا لَّعَلَّكُمۡ تُفۡلِحُوۡنَ
অর্থ: “হে মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের আজান দেওয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং বেচাকেনা বন্ধ করো। এটি তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা জানতে। অতঃপর নামাজ শেষ হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ো, আল্লাহর অনুগ্রহ (রিজিক) অনুসন্ধান করো এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।”
(সুরা জুমুআ, আয়াত ৯-১০)
জোহরের সময়েই জুমার নামাজ আদায় করা হলেও দুটি নামাজের মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।
১. ফরজ রাকাত
২. সুন্নাত নামাজ
৩. খুতবা
৪. অতিরিক্ত আমল
জুমার নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করতে হয়। একা একা জুমার নামাজ আদায় করা যায় না।
সাধারণভাবে আদায়ের পদ্ধতি হলো—
মসজিদে প্রবেশের পর থেকে খুতবার সময় অপ্রয়োজনীয় কথা বলা বা অন্য কাজে ব্যস্ত হওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।
জুমার আজান হওয়ার পর কোরআনের নির্দেশ অনুযায়ী সব কাজকর্ম ছেড়ে নামাজের জন্য উপস্থিত হওয়া উচিত।
তবে শরিয়তে কিছু ক্ষেত্রে ছাড় রয়েছে। যেমন—
এ ধরনের ব্যক্তির ওপর জুমা ফরজ নয়। তারা চাইলে জুমায় অংশ নিতে পারেন, আর অংশ নিতে না পারলে জোহরের নামাজ আদায় করবেন।
মুসলিমদের উচিত শুক্রবার আগে থেকেই মসজিদে উপস্থিত হয়ে খুতবা শোনা এবং ইমামের সঙ্গে দুই রাকাত ফরজ জুমার নামাজ যথাযথভাবে আদায় করা। আল্লাহ তাআলা সবাইকে জুমার নামাজের ফজিলত ও বরকত অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমিন।
/এসএন