• ঢাকা
  • রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৭ পিএম


সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল দুই ভাইয়ের, কফিনবন্দি হয়ে ফিরলেন দেশে

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৯ জুলাই ২০২৬ ৪:৪৮ পিএম

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল দুই ভাইয়ের, কফিনবন্দি হয়ে ফিরলেন দেশে

পরিবারের সুখ-স্বপ্ন পূরণের আশায় শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার আগেই সৌদি আরবে পাড়ি দিয়েছিলেন লক্ষ্মীপুরের ফয়েজ আহমেদ সজীব (২৯) ও ফরহাদ হোসেন সুজন (২১)। কিন্তু প্রবাসের মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় একসঙ্গেই থেমে গেল দুই ভাইয়ের জীবনযাত্রা। শেষ পর্যন্ত তারা দেশে ফিরলেন কফিনবন্দি হয়ে।

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় নবগঠিত চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার গনিপুর গ্রামের নিজ বাড়িসংলগ্ন কামারহাট ঈদগাহ মাঠে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, শুভাকাঙ্ক্ষী ও এলাকাবাসী অংশ নেন। পরে দুই ভাইকে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয়।

নিহত সজীব ও সুজন চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার গনিপুর গ্রামের খলিফারবাড়ীর আবদুল মালেকের বড় ও মেজো ছেলে। বড় ভাই সজীব দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের দাম্মামে খেজুরের ব্যবসা করতেন। পরে নিজের কাজে সহযোগিতার জন্য ছোট ভাই সুজনকেও সেখানে নিয়ে যান।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, গত ১৫ জুলাই রাতে দাম্মামে দোকানের মালামাল আনতে যাওয়ার পথে দুই ভাই ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন। ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।

আইনি প্রক্রিয়া শেষে সোমবার রাতে দুই ভাইয়ের মরদেহ দুটি কফিনে করে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিহতদের বাবা আবদুল মালেক বলেন, “আমার বাবারা এলো, কিন্তু লাশ হয়ে। জীবিত আসলো না, আমাকে বাবা বলে ডাকলো না।”

নিহত সজীবের স্ত্রী ও দুই বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম দুই সদস্যকে হারিয়ে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এদিকে পরিবারের স্কুলপড়ুয়া ছোট ভাইও দুই ভাইয়ের মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন নিপা বলেন, একসঙ্গে দুই ভাইয়ের মৃত্যু অত্যন্ত মর্মান্তিক। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

/এএসএফ