রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী ও টেকসই সমাধানে বন্ধুপ্রতিম দেশ তুরস্কের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক সংকট নিরসন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে তুরস্কের বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
শুক্রবার রাতে রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ সফররত তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে এ তথ্য তুলে ধরেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
রাত সাড়ে ৮টায় শুরু হওয়া এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন দলটির নায়েবে আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খানসহ শীর্ষ নেতারা।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জামায়াত আমির তুরস্ককে বাংলাদেশের একটি ‘পরীক্ষিত বন্ধু’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “তুরস্ক সবসময় বাংলাদেশের পাশে থেকেছে। আজকের বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলা এবং এর স্থায়ী সমাধানে তুরস্কের জোরালো সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।”
ডা. শফিকুর রহমান জানান, বৈঠকে শুধু কূটনৈতিক বিষয় নয়, বাংলাদেশের বর্তমান অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ও অর্থনৈতিক সংস্কারের বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়েছে। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, ব্যাংকিং খাতের চলমান সংকট নিরসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ ছাড়া বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে তুরস্কের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, দেশের চামড়া, পাট ও তৈরি পোশাক শিল্পের বিকাশে সহায়তার পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রতিরক্ষা খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সমসাময়িক ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে ধরে জামায়াত আমির আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আগামী দিনে বাংলাদেশ ও তুরস্কের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে এবং নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
/এসএন