ছবি: সংগৃহীত
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সহসভাপতি ও যুগ্ম সম্পাদকসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে অন্তত ডজনখানেক ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
গত শুক্রবার ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ১২৭ সদস্যের এই কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে এতে ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টদের অন্তর্ভুক্তির অভিযোগে ছাত্রদলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের পাশাপাশি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও এ নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ছাত্রদলের একাধিক নেতা জানান, কমিটিতে অন্তত ১৩ জন সক্রিয় ছাত্রলীগ কর্মীকে জায়গা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের ভাষ্য, বিষয়টি অনেকেই ছাত্রলীগের ‘পুনর্বাসন’ হিসেবে দেখছেন।
অভিযোগকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নতুন কমিটির সদস্যদের নামের সঙ্গে অতীতে ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার ছবি ও ভিডিও মিলিয়ে তাঁদের সংশ্লিষ্টতা শনাক্ত করা হয়েছে। এ তালিকায় যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন—৪ নম্বর সহসভাপতি মিঞা বাবুল, ৩ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. বিল্লাল হোসেন, ২২ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জিহাদুল ইসলাম, ১১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরমান হোসেন, ১২ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইমরান, ২০ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ নুর কাফি, ৫ নম্বরসহ সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ তাকভীর সিয়াম, ৯ নম্বর সহসাংগঠনিক সম্পাদক প্রিতম দাস, ১০ নম্বর সহসাংগঠনিক সম্পাদক বর্ণ বরন সরকার এবং গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক রবিন আহমেদ তানভীর।
ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসাইন শান্ত বলেন, ছাত্রলীগের সদস্যের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। এছাড়া এই কমিটি ঘোষণার আগে বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নবনির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মতামত নেওয়া হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক তারেক হাসান বলেন, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে যাদের ভূমিকা ছিল, তারা অন্য রাজনৈতিক পটভূমির হলেও এবং যাদের বিরুদ্ধে কোনো বিতর্ক নেই, তাদের কমিটিতে রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কমিটিতে ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন ও সিনিয়র-জুনিয়র ভারসাম্য নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, তা সঠিক নয়। বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে পরামর্শ করেই কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং এতে নতুন করে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই।