বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিশেষ রাজনৈতিক বিবেচনা ও দলীয় কোটায় পুলিশে নিয়োগের অভিযোগ তদন্ত করে প্রায় ২২ হাজার নিয়োগে অনিয়ম ও অস্বচ্ছতার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। জেলা পর্যায়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুতের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
তদন্তে দেখা গেছে, ২০১৪ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, কিশোরগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, ঢাকা, বরিশাল, ময়মনসিংহ ও কক্সবাজার—এই ১০ জেলা থেকে পুলিশ বাহিনীতে সর্বাধিক জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তাদের একটি অংশ তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
এ ছাড়া প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের ডিও লেটার (আধা-সরকারি পত্র), আর্থিক লেনদেন, মেধা ও জেলা কোটা লঙ্ঘন এবং স্থায়ী ঠিকানার তথ্য গোপন করে চাকরি পাওয়ার অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে।
প্রায় দুই মাস আগে আইজিপি আলী হোসেন ফকিরের নির্দেশনায় প্রতিটি জেলায় পুলিশ সুপারকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এসব কমিটি গত ১৫ বছরে নিয়োগ পাওয়া প্রায় ৫০ হাজার পুলিশ সদস্যের নিয়োগ-সংক্রান্ত নথি যাচাই-বাছাই করেছে।
নিয়োগ প্রক্রিয়ার পাশাপাশি পদোন্নতি, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পদায়ন এবং বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের ভূমিকার বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
তদন্তে অনিয়মের মাধ্যমে চিহ্নিতদের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রায় ১৭ হাজার কনস্টেবল। এছাড়া প্রায় ৪ হাজার এসআই ও এএসআই রয়েছেন। বাকি ব্যক্তিরা ইন্সপেক্টর থেকে শুরু করে পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তা। তদন্তে বলা হয়েছে, মাঠপর্যায়ে সরাসরি নিয়োগ হওয়ায় কনস্টেবল ও এসআই পদে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে।
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, মাঠপর্যায়ের তথ্য পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুতের কাজ প্রায় শেষ। প্রতিবেদনটি যেকোনো সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হতে পারে।
তবে তদন্তে চিহ্নিত সবাইকে চাকরিচ্যুত করার সুপারিশ করা হচ্ছে না। যাদের নিয়োগে সরাসরি রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও গুরুতর জালিয়াতির প্রমাণ মিলেছে, কেবল তাদের বিরুদ্ধে চাকরিচ্যুতির সুপারিশ থাকবে। অন্যদের কার্যক্রম কঠোর নজরদারির আওতায় রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিগত সরকারের আমলে পুলিশের নিয়োগে বিভিন্ন ধরনের জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, এ প্রক্রিয়ায় কোনো নির্দোষ কর্মকর্তা বা সদস্য যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
উল্লেখ্য, তদন্তে উত্থাপিত অভিযোগ ও অনিয়মের বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে উপস্থাপিত হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রশাসনিক বা আইনগত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।
/এএসএফ