• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫০ এএম


গুম হওয়া ২৫০ জনের সন্ধান মেলেনি, তদন্তে মিলল সত্যতা: চিফ প্রসিকিউটর

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৫ আগস্ট ২০২৬ ১১:১৩ পিএম

গুম হওয়া ২৫০ জনের সন্ধান মেলেনি, তদন্তে মিলল সত্যতা: চিফ প্রসিকিউটরআওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুমের শিকার হয়ে এখনো নিখোঁজ থাকা ২৫০ জনের ঘটনায় প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তদন্তে এসব ব্যক্তি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে অপহরণের শিকার হয়েছেন বলে প্রমাণ মিলেছে বলে জানান তিনি। এসব ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবেও চিহ্নিত করা হয়েছে।মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান চিফ প্রসিকিউটর।আমিনুল ইসলাম বলেন, গুমের শিকার প্রায় ২৫০ জনের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এরই মধ্যে এসব অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা তদন্তে পাওয়া গেছে। অর্থাৎ ওই ২৫০ জনের এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি এবং তদন্তে তাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে অপহরণের শিকার হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে।তিনি জানান, পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের জবানবন্দি গ্রহণ করছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে যেসব স্থান থেকে এসব ব্যক্তিকে অপহরণ করা হয়েছিল, সেসব স্থানও চিহ্নিত করা হয়েছে।চিফ প্রসিকিউটর বলেন, প্রতিটি পরিবারকে আলাদাভাবে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত পরিচালনা করা হচ্ছে। নিখুঁতভাবে তদন্ত শেষ করতে সময় লাগছে। তবে যেসব ভুক্তভোগীর এখনো সন্ধান পাওয়া যায়নি, তাদের পরিবারের অভিযোগকে চলমান অপরাধ হিসেবেও বিবেচনা করা হচ্ছে। গুমের ঘটনাগুলোকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে নাগুমের ঘটনায় তদন্ত ও বিচার পরিচালনার ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী বা অভিযুক্তদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে না বলেও স্পষ্ট করেন আমিনুল ইসলাম।তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী, বিএনপি কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের অনুসারী—এভাবে আলাদা করে বিচার করা হবে না। অপরাধকে অপরাধ হিসেবেই প্রাধান্য দেওয়া হবে এবং প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে।গুমের মামলার তদন্ত আরও জোরদার করতে বড় একটি তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে বলেও জানান চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, আগে একজন তদন্ত কর্মকর্তা এসব মামলা তদন্ত করতেন। এখন তার সঙ্গে আরও চারজনকে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে মোট পাঁচজন তদন্ত কর্মকর্তা এসব মামলা তদন্ত করছেন। পাশাপাশি চিফ প্রসিকিউটরসহ অন্যান্য প্রসিকিউটরও তদন্তের কাজে সমন্বয় করছেন।আমিনুল ইসলাম বলেন, শিগগিরই এসব মামলার দৃশ্যমান ফলাফল পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে গুমের শিকার পরিবারের সদস্যদের বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন তিনি।তিনটি মামলার বিচার চলছেচিফ প্রসিকিউটর জানান, বর্তমানে গুমের তিনটি মামলার বিচার চলছে এবং সেগুলো সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। এসব মামলায় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহিল আমান আযমী, ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম আরমানসহ কয়েকজন ভুক্তভোগী রয়েছেন।এদিকে মঙ্গলবার চিফ প্রসিকিউটরের সঙ্গে বৈঠক করেন গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের প্ল্যাটফর্ম ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলির নেতৃত্বে কয়েকজন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য।বৈঠকে তারা গুমের অভিযোগগুলোর তদন্ত ও বিচার রাজনৈতিক বিবেচনায় না করার অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে চলমান মামলাগুলোর অগ্রগতি সম্পর্কেও জানতে চান তারা।

/বিএসএস