• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম


চট্টগ্রামের আবর্জনা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে আগ্রহী চীনা কনসোর্টিয়াম

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৩ জুন ২০২৬ ৯:৩০ এএম

চট্টগ্রাম নগরীর বর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীনের সিভিয়া-চায়না হার্বার-অর্চার্ড কনসোর্টিয়াম। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে নগরের আবর্জনা ব্যবহার করে ৩০ থেকে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি পরিকল্পনা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) কাছে উপস্থাপন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

মঙ্গলবার (২ জুন) টাইগারপাসে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় কনসোর্টিয়ামের প্রতিনিধিরা এই প্রস্তাব তুলে ধরেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী এবং কনসোর্টিয়ামের প্রতিনিধিরা।

প্রতিনিধিদলের মধ্যে ছিলেন চায়না হার্বার বাংলাদেশের প্রধান, সিভিয়ার দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের প্রধান এবং অর্চার্ড ডেভেলপারস অ্যান্ড কনস্ট্রাকশনের প্রধান।

সভায় কনসোর্টিয়ামের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে তাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। চীনে তারা ইতোমধ্যে ৪১টি আধুনিক বর্জ্যনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ ও পরিচালনা করেছে। এসব প্রকল্পে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করে একদিকে নগর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে, অন্যদিকে জ্বালানি উৎপাদনও নিশ্চিত করা হচ্ছে।

এ সময় চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, দেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র চট্টগ্রামে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বর্জ্য উৎপন্ন হয়। যথাযথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এসব বর্জ্য পরিবেশের জন্য বোঝা না হয়ে মূল্যবান সম্পদে রূপ নিতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বর্জ্যকে সম্পদ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং চট্টগ্রামেও সেই ধারণা বাস্তবায়নের সময় এসেছে। শুধু বর্জ্য অপসারণ নয়, বরং এর কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করাও জরুরি।

মেয়র বলেন, আবর্জনা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পরিবেশগত চাপ কমার পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির একটি নতুন উৎস সৃষ্টি হবে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে এর কারিগরি, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত দিকগুলো গভীরভাবে মূল্যায়ন করা হবে এবং নগরবাসীর স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

সভায় সম্ভাব্য প্রকল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। একই সঙ্গে কারিগরি মূল্যায়ন ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের বিষয়ে উভয়পক্ষ মতবিনিময় করে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রামের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে নতুন মাত্রা যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি জ্বালানি উৎপাদনেও সম্ভাবনার নতুন দুয়ার উন্মোচিত হবে।

/এসএন