• ঢাকা
  • বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৫৮ এএম


ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে এবার এআই ক্যামেরার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় মামলা

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৭ মে ২০২৬ ৪:১৪ পিএম

ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন সড়কে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিসমৃদ্ধ সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা দেওয়া শুরু করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। নতুন এই ব্যবস্থার আওতায় ট্রাফিক আইন ভঙ্গের ঘটনা ভিডিও ও স্থিরচিত্রে ধারণ করে অটো জেনারেটেড মামলা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল থেকে ডিএমপির আওতাধীন এলাকাগুলোতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই আইনি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর ফলে রাজধানীতে ট্রাফিক আইন অমান্য করলে অনেক ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট চালক বা মালিকের অজান্তেই মামলা হয়ে যাচ্ছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আনিছুর রহমান। তিনি জানান, ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন সড়কে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে ভিডিও ও স্থিরচিত্র ধারণ করে আজ থেকেই অটো জেনারেটেড মামলা দেওয়া শুরু হয়েছে। এখন থেকে ট্রাফিক আইন অমান্য বা লঙ্ঘন করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা হয়ে যাবে। পরে এ সংক্রান্ত নোটিশ ডাকযোগে মালিক ও চালকদের ঠিকানায় পাঠানো হবে।

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে নোটিশ পাঠানোর কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। নোটিশ পাওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জরিমানা পরিশোধ করতে হাজির না হলে পরবর্তী ধাপে সমন বা গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এর আগে ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, যানজট নিরসন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং নাগরিক সেবা উন্নত করতে রাজধানীর বিভিন্ন রুটে চলাচলরত রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অবৈধ পার্কিং এবং অন্যান্য ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ভিডিও ও স্থিরচিত্র ধারণ করে ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মালিক ও চালকদের ঠিকানায় নোটিশ রেজিস্ট্রি ডাকযোগে পাঠানো হচ্ছে। নোটিশ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ডিএমপি সদর দপ্তর বা সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগে হাজির হয়ে সড়ক পরিবহণ আইনে নির্ধারিত জরিমানা ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করে মামলা নিষ্পত্তি করতে পারবেন।

ডিএমপি আরও জানিয়েছে, নোটিশ পাওয়ার পরও কেউ সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগে হাজির না হলে স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে সমন বা গ্রেফতারি পরোয়ানাসহ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একই সঙ্গে সাধারণ নাগরিকদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, সিসি ক্যামেরা বা ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে হওয়া মামলার জরিমানা পরিশোধের বিষয়ে কোনো ব্যক্তি বা চক্র যদি ব্যক্তিগতভাবে অর্থ দাবি করে বা তথ্য আদান-প্রদানের চেষ্টা করে, তাহলে তা থেকে বিরত থাকতে হবে। এ ধরনের প্রতারণার চেষ্টা হলে দ্রুত নিকটস্থ থানা বা সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ডিএমপি জানিয়েছে, সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন ট্রাফিক সিগন্যাল ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় উন্নত প্রযুক্তির এআই সক্ষম সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যামেরার ফুটেজ ব্যবহার করে লাল বাতি অমান্য, স্টপ লাইন অতিক্রম, উল্টো পথে গাড়ি চালানো, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করিয়ে যানজট সৃষ্টি, অবৈধ পার্কিং এবং লেফট লেন ব্লকসহ বিভিন্ন ট্রাফিক অপরাধে ডিজিটাল প্রসিকিউশন বা মামলা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

/এসএন