চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের উত্তাল দিনগুলোতে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার হয়ে উঠেছিল হাজারো মানুষের মিলনস্থল। প্রতিবাদী গান, স্লোগান এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে শহীদ মিনার ও আশপাশের এলাকা পরিণত হয়েছিল আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিতে ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট শনিবার দুপুর থেকেই শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শহীদ মিনারে জড়ো হতে শুরু করেন। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মুহুর্মুহু স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
হালকা বৃষ্টি উপেক্ষা করে দুপুর আড়াইটার পর থেকেই দলে দলে আন্দোলনকারীরা শহীদ মিনারের দিকে আসতে থাকেন। বিকেল যত গড়াতে থাকে, সমাবেশে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা ততই দ্রুত বাড়তে থাকে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মানুষের উপস্থিতি শুধু শহীদ মিনারেই সীমাবদ্ধ ছিল না। জনস্রোত ছড়িয়ে পড়ে চাঁনখারপুল, দোয়েল চত্বর, জগন্নাথ হল মোড় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ রাসেল টাওয়ার পর্যন্ত। আন্দোলনে অংশ নেওয়া মানুষের মধ্যে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, বিভিন্ন পেশাজীবীর পাশাপাশি কয়েকজন রিকশাচালককেও স্লোগান দিতে দেখা যায়।
সারা এলাকা প্রকম্পিত হতে থাকে নানা প্রতিবাদী স্লোগানে। আন্দোলনকারীরা উচ্চারণ করেন—‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে’, ‘জাস্টিস জাস্টিস উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘দিয়েছি তো রক্ত, আরও দিবো রক্ত’, ‘স্বৈরাচারের গদিতে আগুন জ্বালো একসাথে’, ‘জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো’ এবং ‘বুকের ভেতর অনেক ঝড়, বুক পেতেছি গুলি কর’—এসব স্লোগান।
পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনকারীরা জড়ো হতে শুরু করেন। পরে তারা মিছিল নিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের দিকে অগ্রসর হন। বেলা আড়াইটার দিকে সায়েন্সল্যাব মোড়ে প্রায় দুই ঘণ্টা অবস্থানের পর অবরোধ তুলে নিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা মিছিলসহ শহীদ মিনারের উদ্দেশে রওনা দেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধারাও অংশ নেন। শহীদ মিনারের মূল বেদি এবং সংলগ্ন সড়কে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে তারাও বিভিন্ন স্লোগান দেন।
সমাবেশে অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা এই মুহূর্তে সরকারের পদত্যাগ দাবি করছি। কারণ এই সরকারের অধীনে আমাদের ভাইয়ের খুনিদের বিচার আমরা পাব না। আমাদের অনেক ভাইকে পুলিশ গুলি করে হত্যা করেছে। একমাত্র সরকারের পদত্যাগ ছাড়া এইসব খুনের বিচার হবে না।’
অন্যদিকে রাজধানীর ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে জড়ো হন একদল সংগীতশিল্পী। বিকেল ৩টার দিকে ‘গেট আপ, স্ট্যান্ড আপ’ স্লোগানকে সামনে রেখে তারা সেখানে সমবেত হন এবং আলোচিত তরুণ র্যাপার হান্নানকে গ্রেপ্তারের নিন্দা জানান। পরে সেখান থেকে তারা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন।
/এসএন