• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০১:৪৮ এএম


দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য চালু হচ্ছে ‘ন্যাশনাল হেলথ কার্ড’, জানালেন আইসিটিমন্ত্রী

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২২ জুলাই ২০২৬ ১০:৩৫ পিএম

দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য ‘ন্যাশনাল হেলথ কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই কার্ড চালু হলে রোগীর চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকেই তাৎক্ষণিকভাবে দেখতে পারবেন চিকিৎসকেরা। ফলে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসাসেবা আরও দ্রুত, কার্যকর এবং সমন্বিত হবে।

বুধবার (২২ জুলাই) চীনের শি’আনে অনুষ্ঠিত ‘ডিজিটাল অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্ট ইন্টিগ্রেশন ফর হেলথ– টুওয়ার্ডস অ্যা নিউ কো-অপারেটিভ ইকোসিস্টেম অ্যালং দ্য সিল্ক রোড’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব তথ্য জানান ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

মন্ত্রী বলেন, ন্যাশনাল হেলথ কার্ড চালু হলে চিকিৎসকেরা রোগীর প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যতথ্য দ্রুত দেখতে পারবেন। এর ফলে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা আরও দ্রুত, নির্ভুল এবং সমন্বিতভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, এটি কেবল একটি প্রযুক্তিগত উদ্যোগ নয়, বরং স্বাস্থ্যসেবায় সমতা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

তিনি আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো রাজধানী ঢাকার একটি আধুনিক হাসপাতালে একজন রোগী যে মানের চিকিৎসাসেবা পান, দেশের প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের মানুষও যেন একই মানের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ পান।

ফকির মাহবুব আনাম জানান, সরকার একটি মানবকেন্দ্রিক জাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নীতি প্রণয়নের কাজ করছে। এই নীতির ভিত্তি হবে মানবাধিকার, নৈতিকতা, স্বচ্ছতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন। প্রযুক্তির অগ্রগতি যেন মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হয় এবং কেউ যেন এর সুফল থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শক্তিশালী ডেটা সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। নিরাপদ তথ্য ব্যবস্থাপনা ছাড়া টেকসই ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মন্ত্রী আরও জানান, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে প্রযুক্তিনির্ভর উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকার আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব, উদ্ভাবনী প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সমাধানের সমন্বয়ে কাজ করছে। বৈষম্যহীন, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

চীন সরকারের অর্থায়নে বিশ্ব ইন্টারনেট কনফারেন্স (ডব্লিউআইসি) বা ‘উঝেন সামিট’ সচিবালয় এই সিল্ক রোড ফোরামের আয়োজন করে। এতে চীনের সাইবারস্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের শীর্ষ কর্মকর্তা, শানসি প্রদেশের নেতৃবৃন্দ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

২১ ও ২২ জুলাই অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশ ছাড়াও কম্বোডিয়া, আলজেরিয়া, জাম্বিয়া, কিউবা, নিকারাগুয়া, মরক্কো, সুদান, তিউনিসিয়া, রাশিয়া ও ব্রাজিলসহ বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, নীতিনির্ধারক, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

/এসএন