দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের দাবি, বর্তমানে দেশে ৩১ দিনের ডিজেল, ৩৬ দিনের অকটেন, ২০ দিনের পেট্রোল, ২০ দিনের জেট ফুয়েল এবং ২৫ দিনের ফার্নেস অয়েলের মজুদ রয়েছে। ফলে আগামী আগস্ট মাসেও জ্বালানি তেল সরবরাহে কোনো সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা নেই।
বুধবার (২২ জুলাই) সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী।
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের সংকট নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে এই জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জনমনে বিভ্রান্তি দূর করা এবং গুজবের জবাব দিতেই এই ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে মুখপাত্র দাবি করেন, দেশে সংকট তৈরির উদ্দেশ্যে জ্বালানি তেল নিয়ে গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে দেশে ১ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পৌঁছাবে। এছাড়া আগস্ট মাসে আরও ২ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করা হবে। এ কারণে জ্বালানি পণ্যের সরবরাহ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে মন্তব্য করেন জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র।
প্রাকৃতিক গ্যাস পরিস্থিতি নিয়ে মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, দেশে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এই ঘাটতি দীর্ঘদিনের হলেও নতুন সরকার গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
তিনি আরও জানান, একটি এলএনজির ভাসমান টার্মিনাল (এফএসআরইউ)-এ যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সাময়িকভাবে গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবেই কিছু সিএনজি স্টেশনে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ত্রুটি মেরামতের কাজ চলছে এবং আগামী দুই দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
/এসএন