টানা বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের কারণে দেশের সাতটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের ৫৮টি উপজেলা বন্যাকবলিত হয়েছে। এ দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও ৩৯ জন।
মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ তথ্যে জানা গেছে, সাত জেলায় মোট ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে ১ হাজার ১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন ৪৪ হাজার ৪৫৭ জন মানুষ।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলা। চট্টগ্রামে প্রায় ৫ লাখ ৯৫ হাজার মানুষ বন্যার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অন্যদিকে কক্সবাজারে স্থানীয় বাসিন্দা ও রোহিঙ্গাসহ মোট ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
গত ছয় দিনে (৭ থেকে ১২ জুলাই) বন্যাকবলিত এলাকাগুলোর জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় মোট ২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং ৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে।
তবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যার তুলনায় এ বরাদ্দ পর্যাপ্ত কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিপ্রতি নগদ বরাদ্দ দাঁড়ায় মাত্র ২৮ টাকা এবং মাথাপিছু চাল বরাদ্দ প্রায় ৩ দশমিক ২ কেজি। সংশ্লিষ্টদের মতে, এত অল্প সহায়তায় বিশেষ করে বড় পরিবারের নিত্যপ্রয়োজন মেটানো কঠিন।
ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চাল ও নগদ অর্থের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে শুকনা খাবার ও ঢেউটিন বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার পক্ষ থেকেও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
সরকার জানিয়েছে, পরিস্থিতি বিবেচনা করে পর্যায়ক্রমে ত্রাণ বরাদ্দ আরও বাড়ানো হবে। তবে দুর্যোগ বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে জরুরি ত্রাণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে ব্যাপক ও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
/এএসএফ