• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম


কুষ্টিয়ায় পীরকে পিটিয়ে হত্যা

সাতটি আইডি থেকে রাতভর ভিডিও ছড়ানো, হাম/লার নেতৃত্বে স্থানীয় নেতা

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ২:১৭ পিএম

কুষ্টিয়ার ফিলিপনগর এলাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়, যা শেষ পর্যন্ত দরবারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় গড়ায়।

গত শুক্রবার দিবাগত রাত থেকে ফেসবুকের সাতটি আইডি—তিনটি পেজ ও চারটি ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট—থেকে ৩৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়তে থাকে। ধর্ম অবমাননার অভিযোগ থাকা ভিডিওটির লিংক শনিবার সকাল পর্যন্ত স্থানীয়দের মধ্যে মেসেঞ্জারসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

শনিবার সকাল ৯টার দিকে বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। এরপর পুলিশ স্থানীয় কয়েকজন নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করে। তবে প্রাথমিকভাবে কোনো উত্তেজনার ইঙ্গিত না পাওয়া গেলেও পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন হয়।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ছড়ানো ফেসবুক আইডিগুলোর মধ্যে ‘সত্যের সন্ধানে ফিলিপনগর’ নামের একটি পেজও ছিল।

পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, সকাল থেকেই একটি রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছিল। তিনি আসরের নামাজের পর বৈঠকের কথা বললেও দরবারে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করেন। পরে তার বক্তব্যে অসঙ্গতি দেখা দিলে পুলিশ সতর্ক হয় এবং এলাকায় টহল জোরদার করা হয়।

দুপুর ২টা ৩৬ মিনিটের দিকে হঠাৎ করে শতাধিক মানুষ লাঠিসোঁটা নিয়ে দরবারে হামলা চালায়। হামলাকারীদের মধ্যে কিছু মাদ্রাসার শিক্ষার্থীও ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই) জানান, ভিডিও ছড়ানো সাতটি আইডির মধ্যে কয়েকটির অ্যাডমিনকে শনাক্ত করা গেছে। পাশাপাশি হামলায় জড়িত ১৫ থেকে ১৮ জনকেও চিহ্নিত করা হয়েছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ জয়নুদ্দিন বলেন, ধর্ম অবমাননা যেমন অপরাধ, তেমনি হত্যা, হামলা ও ভাঙচুরও গুরুতর অপরাধ। সব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে নিহত পীরের ভক্তরা দরবারে এসে ভাঙচুরের চিত্র দেখে শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। তাদের দাবি, কোনো অভিযোগ থাকলে আইনের মাধ্যমে বিচার হওয়া উচিত ছিল।

বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিজিবির সদস্যরাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।