• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০২:৪১ এএম


অসুস্থ পোষা খরগোশকে কোলে নিয়ে হাসপাতালে পাঁচ বছরের সিনহা!

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৭ জুলাই ২০২৬ ৯:৫৪ এএম

পাঁচ বছরের শিশু সিনহা মনি। কোলে তার সবচেয়ে প্রিয় সঙ্গী—অসুস্থ খরগোশ ‘মন্টু’। শিশুটির চোখেমুখে উৎকণ্ঠা, আর খরগোশটি নিশ্চুপ হয়ে চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে। এমন হৃদয়স্পর্শী দৃশ্য দেখা গেছে বুধবার দুপুরে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার দপ্তরে।

সিনহা শ্রীপুর উপজেলার গোসিংগা ইউনিয়নের খিলপাড়া গ্রামে নানা জয়নাল আবেদীনের বাড়িতে থাকে। দেড় বছর আগে নানা তাকে একটি ছোট্ট খরগোশ কিনে দেন। এরপর থেকেই মন্টু হয়ে ওঠে তার নিত্যসঙ্গী। নাম ধরে ডাকলেই খরগোশটি সিনহার কোলে উঠে আসে। সে নিজ হাতে মন্টুকে ভাত, ঘাস এমনকি চিপসও খাওয়ায়।

কয়েক দিন ধরে খরগোশটি অসুস্থ হয়ে পড়েছে। খাবারও খাচ্ছে না। সিনহার ধারণা, কেউ হয়তো খরগোশটির কোমরে আঘাত করেছে। প্রিয় সঙ্গীর এমন অবস্থায় সে নিজেও খাওয়া-দাওয়ায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। তাই খরগোশটিকে কোলে নিয়ে চিকিৎসার জন্য প্রাণিচিকিৎসকের কাছে ছুটে আসে।

সিনহার সঙ্গে ছিলেন তার খালা জামিয়া আক্তার। তিনি জানান, জন্মের পরই প্রসবজনিত জটিলতায় সিনহার মা মারা যান। এরপর থেকে নানা-নানির কাছেই বড় হচ্ছে শিশুটি। তাকে আনন্দে রাখতে নানা একটি খরগোশ ও একটি বিড়ালছানা কিনে দেন। বিড়ালটির নাম ‘ঝন্টু’। এই দুই পোষা প্রাণীকেই ঘিরে সিনহার প্রতিদিনের আনন্দ।

জামিয়া আক্তার বলেন, পোশাক কারখানায় কাজ শেষে বাসায় ফিরে তিনি দেখেন, ভাগনি মন খারাপ করে অসুস্থ খরগোশটিকে কোলে নিয়ে বসে আছে। পরে অফিস থেকে ছুটি নিয়ে তাকে প্রাণিসম্পদ দপ্তরে নিয়ে আসেন।

শ্রীপুর উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন গোলাম মুরশেদ খরগোশটি পরীক্ষা করে জানান, এর কোমরে ব্যথা রয়েছে। তবে হাড় ভেঙেছে কি না, তা নিশ্চিত হতে এক্স-রে প্রয়োজন। আপাতত ওষুধ দেওয়া হয়েছে এবং দুই দিন পর্যবেক্ষণে রাখার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শ্রীপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আশরাফ হোসেন বলেন, প্রতিদিনই অনেকেই পোষা প্রাণীর চিকিৎসার জন্য আসেন। তবে কোনো শিশুর প্রাণীর প্রতি এত গভীর মমতা ও ভালোবাসা সত্যিই হৃদয় ছুঁয়ে যায়।

/এএসএফ