যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরোয়ার্ড ট্রেভর ইসলাম যোগ দিচ্ছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলে
বাংলাদেশ ফুটবল প্রেমীদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে। হামজা চৌধুরীর পর এবার লাল-সবুজের জার্সিতে মাঠ মাতাতে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া প্রবাসী বাংলাদেশি ফুটবলার ট্রেভর ইসলাম। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে খেলা এই তরুণ ফরোয়ার্ডের বাংলাদেশ জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্তি এখন কেবল সময়ের ব্যাপার।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) সূত্রে জানা গেছে, ট্রেভরের নাগরিকত্ব সংক্রান্ত প্রায় সব জটিলতা কেটে গেছে। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি তার জন্ম নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে তার বাংলাদেশি পাসপোর্ট তৈরির কাজ চলছে, যা আগামী মে মাসের মধ্যেই হাতে পাওয়ার কথা রয়েছে। বাফুফে সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ট্রেভর এবং তার পরিবার বাংলাদেশ দলে খেলার ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী।
২১ বছর বয়সী ট্রেভর ইসলাম বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের এনসিএএ (NCAA) ডিভিশন-১ লিগে স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির হয়ে খেলছেন। একজন তুখোড় লেফট-ফুটেড ফরোয়ার্ড হিসেবে তার খ্যাতি রয়েছে। মাঠে তার গতি এবং ফিনিশিং দক্ষতা তাকে অন্য সবার চেয়ে আলাদা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে তিনি ‘এসিসি কো-অফেন্সিভ প্লেয়ার অফ দ্য উইক’-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ খেতাবও জিতেছেন। মূলত সেন্টার-ফরোয়ার্ড হলেও উইংয়েও তিনি সমান কার্যকর।
পাসপোর্ট মে মাসে হাতে এলেও, ট্রেভরকে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে দেখার জন্য ভক্তদের হয়তো বছরের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এর মূল কারণ তার একাডেমিক দায়বদ্ধতা।
বাংলাদেশ জাতীয় দলের বর্তমান কোচিং স্টাফের মতে, ফরোয়ার্ড লাইনে একজন দক্ষ গোলদাতার যে অভাব দীর্ঘদিন ধরে ছিল, ট্রেভর ইসলাম তা পূরণ করতে পারবেন। হামজা চৌধুরী এবং জায়ান আহমেদের মতো প্রবাসী প্রতিভাদের পাশাপাশি ট্রেভরের অন্তর্ভুক্তি ২০২৭ সালের এশিয়ান কাপ কোয়ালিফায়ার এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে বাংলাদেশকে এক শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে গড়ে তুলবে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতোমধ্যেই ট্রেভরের গোল করার ভিডিও ক্লিপগুলো ভাইরাল হয়েছে। ফুটবল ভক্তদের মতে, আধুনিক ফুটবলের প্রশিক্ষণ পাওয়া এমন একজন তরুণ প্রতিভা দলে এলে বাংলাদেশ দলের খেলার ধরনে বড় পরিবর্তন আসবে।
বাফুফে এখন শুধু ট্রেভরের পাসপোর্টের অপেক্ষায়। সব ঠিক থাকলে ২০২৬ সালের শেষভাগ থেকেই বাংলাদেশের আক্রমণভাগের নেতৃত্ব দিতে দেখা যাবে এই ‘স্ট্যানফোর্ড স্টার’-কে।