• ঢাকা
  • বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১২ এএম


ইতিহাসের দেয়াল ভেঙে শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয় গড়ছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১১ মে ২০২৬ ৯:৫৩ এএম

ঢাকা: দীর্ঘ কয়েক দশকের রাজনৈতিক দূরত্ব ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর নিরাপত্তা সহযোগিতায় নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। সম্প্রতি ঢাকায় স্বাক্ষরিত এক সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে দুই দেশ গোয়েন্দা তথ্য আদান–প্রদান, যৌথ তদন্ত এবং নিরাপত্তা সমন্বয়ের আনুষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তুলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে।শ্রীলঙ্কাভিত্তিক অনলাইন সংবাদমাধ্যম শ্রীলঙ্কা গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত শুক্রবার (৮ মে) ঢাকায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এতে সই করেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন রাজা নাকভি।আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিটিকে মাদক ও মানবপাচারবিরোধী সহযোগিতা হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও আঞ্চলিক বিশ্লেষকদের মতে, এর পরিধি কেবল আইনশৃঙ্খলা সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

চুক্তির আওতায় দুই দেশের নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে নিয়মিত গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, গোপন যোগাযোগব্যবস্থা, যৌথ তদন্ত কার্যক্রম এবং অপারেশনাল সমন্বয়ের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর এ ধরনের কাঠামোবদ্ধ নিরাপত্তা সহযোগিতা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিরল ঘটনা। স্বাধীনতার ইতিহাস ও পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে বাংলাদেশ–পাকিস্তান সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই সীমিত যোগাযোগ ও অবিশ্বাসের আবহে আবদ্ধ ছিল।সমঝোতা স্মারকে আন্তঃসীমান্ত মাদক পাচার, সংঘবদ্ধ অপরাধ ও চোরাচালান মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ‘কন্ট্রোলড ডেলিভারি অপারেশন’ পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার মাধ্যমে অবৈধ চালান সরাসরি আটক না করে নজরদারির আওতায় রেখে পুরো অপরাধচক্র শনাক্ত করার সুযোগ তৈরি হয়।

পাশাপাশি বাংলাদেশের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও পাকিস্তানের অ্যান্টি–নারকোটিক্স ফোর্সের মধ্যে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও প্রশিক্ষণ বিনিময়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।তবে আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী চুক্তিতে এসব বিষয় নতুন না হলেও স্থায়ী গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও গোপন অপারেশনাল সমন্বয়ের বিষয়টি বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের। তাদের মতে, এই চুক্তি ভবিষ্যতে আরও গভীর নিরাপত্তা ও কৌশলগত সহযোগিতার ভিত্তি তৈরি করতে পারে।

বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও পররাষ্ট্রনীতিতে যে পরিবর্তন এসেছে, এই চুক্তি তারই প্রতিফলন। বঙ্গোপসাগরীয় নিরাপত্তা, আঞ্চলিক বাণিজ্যপথ এবং দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্যের কারণে বিষয়টি নিয়ে ভারত, চীনসহ আঞ্চলিক শক্তিগুলো নিবিড় পর্যবেক্ষণ করছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় মাদক পাচার, সংঘবদ্ধ অপরাধ ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা ঝুঁকির মতো অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশগুলো এখন দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার দিকে বেশি ঝুঁকছে। তবে বাংলাদেশ–পাকিস্তান নিরাপত্তা সহযোগিতার এই নতুন অধ্যায় ভবিষ্যতে কতটা কার্যকর হবে এবং এটি আইনশৃঙ্খলা সহযোগিতার গণ্ডি পেরিয়ে বৃহত্তর কৌশলগত অংশীদারিত্বে রূপ নেবে কি না—সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে

/বিএসএস