মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে জর্ডানের পূর্বাঞ্চলীয় মরুভূমিতে অবস্থিত আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। সংস্থাটির দাবি, হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি এফ-৩৫ স্টিলথ যুদ্ধবিমান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং আরও তিনটি যুদ্ধবিমান গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, দক্ষিণাঞ্চলীয় কেশম দ্বীপে মার্কিন বাহিনীর সাম্প্রতিক বিমান হামলার প্রতিক্রিয়ায় আল-আজরাক বিমানঘাঁটির এয়ারক্রাফট পার্কিং র্যাম্প ও রক্ষণাবেক্ষণ হ্যাঙ্গার লক্ষ্য করে নির্ভুল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়।ইরানি পক্ষ আরও দাবি করেছে, এই হামলায় বেশ কয়েকজন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা এবং বিমান রক্ষণাবেক্ষণ কর্মী নিহত হয়েছেন।এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিশ্বের অন্যতম আধুনিক স্টিলথ মাল্টিরোল ফাইটার হিসেবে পরিচিত। প্রতিটি বিমানের মূল্য কনফিগারেশন ও ক্রয়চুক্তির ধরন অনুযায়ী শতকোটি ডলারের বেশি হতে পারে। সে হিসেবে আইআরজিসির দাবি সত্য হলে কয়েকশ মিলিয়ন ডলারের সামরিক সম্পদের ক্ষতি হয়েছে।এর আগে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, জর্ডানে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে পূর্ববর্তী ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে তারা ইরানের বিরুদ্ধে ‘ভারী মাত্রার হামলা’ চালিয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, অভিযানে আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট সামরিক কমান্ড সেন্টার, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা এবং উপকূলীয় নজরদারি অবস্থানসহ একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে।এদিকে, কুয়েতে একটি ইরানি হামলায় একটি চীনা কোম্পানির ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একজন কর্মী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি জর্ডানের আকাশসীমায় কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে।বর্তমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। শত্রুর আকাশ প্রতিরক্ষা ভেদ করে নির্ভুল লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা এবং মিত্রবাহিনীর সঙ্গে তাৎক্ষণিক তথ্য আদান-প্রদানের সক্ষমতার কারণে এসব বিমান ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।তবে আইআরজিসির এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা জর্ডানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। এছাড়া স্বাধীন কোনো সূত্র থেকেও এই দাবির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে বিষয়টি এখনও কেবল ইরানি পক্ষের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
/বিএসএস