যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেবাননে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে আরও নিখুঁত ও সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভেদী বা ‘সার্জিক্যাল’ হামলা চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন। কিছুদিন আগেও তিনি লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তবে তার সাম্প্রতিক মন্তব্যকে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতে ইসরাইলি সামরিক অভিযান ও সহিংসতা আরও তীব্র করার প্ররোচনা হিসেবে দেখছেন অনেকে।
শুক্রবার (৬ জুন) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসিকে দেওয়া একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। সাক্ষাৎকারটি রোববার (৭ জুন) সম্প্রচারিত হয়।
সাক্ষাৎকারে লেবাননের জনগণের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, তিনি লেবাননকে একটি সুন্দর ও উন্নত জীবন উপভোগ করতে দেখতে চান। তবে একই সঙ্গে তিনি হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে আরও নিখুঁত ও সুনির্দিষ্ট হামলার পক্ষে মত দেন।
ট্রাম্পের ভাষায়, “আমি লেবাননকে একটি সুন্দর ও উন্নত জীবন উপভোগ করতে দেখতে চাই। তবে একই সঙ্গে আমি হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে আরও নিখুঁত ও সুনির্দিষ্ট হামলা দেখতে চাই। আমি মনে করি, এই হামলাগুলো আরও বেশি ‘সার্জিক্যাল’ বা লক্ষ্যভেদী হওয়া উচিত।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননের সাধারণ মানুষের প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করলেও ট্রাম্পের এই বক্তব্য কার্যত দেশটিতে নতুন করে সামরিক অভিযান ও সহিংসতার বৈধতা দেওয়ার শামিল। তাদের মতে, শান্তি প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে এ ধরনের লক্ষ্যভিত্তিক হামলার আহ্বান চলমান সংঘাতকে আরও দীর্ঘায়িত ও জটিল করে তুলতে পারে।
এদিকে চলতি বছরের ২ মার্চ থেকে লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলের হামলায় ইতোমধ্যে অন্তত ৩ হাজার ৬১৩ জন নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সাধারণ নাগরিকও রয়েছেন।
এমন একটি মানবিক সংকটের প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে ট্রাম্পের এই বক্তব্য অঞ্চলটির নিরাপত্তা ও শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে আরও প্রশ্ন তৈরি করেছে।