• ঢাকা
  • বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৪ এএম


যুদ্ধ ও উত্তেজনার মধ্যেও মার্কিন ভিসা পেল ইরান ফুটবল দল

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৬ জুন ২০২৬ ১০:২১ পিএম

চলমান যুদ্ধ ও তীব্র কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই আগামী ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলার মাত্র ১০ দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেয়েছেন ইরান জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড়রা।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে মেক্সিকোতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আবুলফজল পাসান্দিদেহ জানিয়েছিলেন, স্কোয়াডের খেলোয়াড়রা তখনো মার্কিন ভিসা পাননি। তবে হোয়াইট হাউসের ওই কর্মকর্তা জানান, বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাতেই ভিসাগুলো অনুমোদন করা হয়।

তুরস্কে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত টম বারাক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন এবং আঙ্কারায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসকে ধন্যবাদ জানান।

তবে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, খেলোয়াড়দের ভিসা দেওয়া হলেও দলের কারিগরি ও প্রশাসনিক বিভাগের কয়েকজন সদস্য এখনো মার্কিন প্রশাসনের কাছ থেকে ভিসা পাননি। এ বিষয়ে ইরান ফুটবল ফেডারেশন এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এবারের ফুটবল বিশ্বকাপ নতুন এক ভূরাজনৈতিক মাত্রা পেয়েছে। ১৯৩০ সালে বিশ্বকাপ শুরুর পর এই প্রথম এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে আয়োজক দেশ এমন একটি রাষ্ট্রকে স্বাগত জানাচ্ছে, যার সঙ্গে তাদের সরাসরি সামরিক সংঘাত চলছে।

ভিসা জটিলতা এবং যুক্তরাষ্ট্রে দলের অবস্থান যতটা সম্ভব সীমিত রাখার উদ্দেশ্যে তেহরান শেষ মুহূর্তে তাদের প্রস্তুতি ক্যাম্প অ্যারিজোনা থেকে সরিয়ে মেক্সিকোর টিজুয়ানায় স্থানান্তর করেছে। রোববার (৭ জুন) ভোরে দলটির টিজুয়ানায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

আগামী ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে গ্রুপ পর্বে যাত্রা শুরু করবে ইরান। একই গ্রুপে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম ও মিশর।

মেক্সিকোতে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত আবুলফজল পাসান্দিদেহ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি যে তারা ইরান দলকে নিজেদের মাটিতে দেখতে চায় না। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্ট করে বলেছেন, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)–এর সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো ব্যক্তিকে বিশ্বকাপ প্রতিনিধিদলের অংশ হিসেবে অনুমতি দেওয়া হবে না।

এই কড়াকড়ির কারণে সাবেক আইআরজিসি কমান্ডার এবং ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ গত ডিসেম্বরে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার অনুমতি পাননি।

যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তকে শান্তির বার্তা হিসেবে দেখছে তেহরান। রাষ্ট্রদূত পাসান্দিদেহের ভাষ্য, শত্রুর ভূখণ্ডে গিয়েও বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে ইরান দেখাতে চায় যে তারা শান্তি চায়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনা ধীরগতিতে এগোলেও এবং সামরিক হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত থাকলেও উভয় পক্ষ একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।