পবিত্র ঈদুল আজহার প্রথম দিনে ফিলিস্তিনের দখলকৃত জেরুজালেমে অবস্থিত ঐতিহাসিক আল-আকসা মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন হাজারো মুসল্লি। চলমান যুদ্ধ ও চরম উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও বুধবার (২৭ মে) সকাল থেকে মুসল্লিদের উপস্থিতিতে মসজিদ চত্বর পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঈদুল আজহার চার দিনের ছুটির প্রথম দিন ভোর থেকেই আল-আকসা মসজিদের বিশাল প্রাঙ্গণে ভিড় করতে থাকেন মুসলমানরা। প্রতিকূল পরিস্থিতি উপেক্ষা করে হাজারো ফিলিস্তিনি একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেন এবং পরস্পরের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, মহান আল্লাহর নির্দেশে হজরত ইবরাহিম (আ.) তাঁর প্রিয় সন্তানকে কোরবানি করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। সেই ঘটনার স্মরণেই মুসলমানরা ঈদুল আজহা পালন করেন। খ্রিস্টান ও ইহুদিদের কাছে হজরত ইবরাহিম (আ.) আব্রাহাম নামে পরিচিত। এই দিনে মুসলমানরা পশু কোরবানি করেন এবং সেই মাংস দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে বিতরণ করেন।
মুসলিম বর্ষপঞ্জির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই ধর্মীয় উৎসবটি এবার এমন এক সময়ে পালিত হচ্ছে, যখন গত বছরের অক্টোবর থেকে কার্যকর যুদ্ধবিরতি চুক্তি বারবার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠছে। এ পরিস্থিতির জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করা হচ্ছে এবং এর ফলে গাজার পরিস্থিতি আবারও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনায় এসেছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ১০ অক্টোবর ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৮৮০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ২ হাজার ৬৪৫ জনের বেশি মানুষ। যদিও যুদ্ধবিরতি চুক্তির মূল উদ্দেশ্য ছিল ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধ করা।
এদিকে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া রক্তক্ষয়ী সংঘাতে গাজায় এখন পর্যন্ত ৭২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও ১ লাখ ৭২ হাজারের বেশি মানুষ।
দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধে গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
/এসএন