আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে যেন একটি অলিখিত সত্যে পরিণত হয়েছিল—যেকোনো সংকটেই টিকে থাকার পথ খুঁজে নেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার দল তৃণমূল কংগ্রেস। তবে সাম্প্রতিক নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি-র কাছে পরাজয়ের মাধ্যমে সেই অধ্যায়ের বড় ধাক্কা এলো।
এই হারে টানা চতুর্থবার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন ভেঙে গেছে মমতার। একই সঙ্গে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে ভারতের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক ক্যারিয়ার।
২০১১ সালে টানা ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় আসেন মমতা। সেই সময় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনায় উঠে আসেন তিনি। The New York Times তাকে ‘বার্লিন দেয়াল গুঁড়িয়ে দেওয়া হাতুড়ি’ হিসেবে বর্ণনা করেছিল। আর TIME তাকে বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় স্থান দেয়।
কলকাতার এক নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া মমতা ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। নব্বইয়ের দশকে পশ্চিমবঙ্গের বামবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন তিনি। ১৯৯০ সালে এক রাজনৈতিক হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনাও তাকে ‘লড়াকু নেত্রী’ হিসেবে পরিচিতি এনে দেয়।
২০০৭ সালের সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রাম আন্দোলনের মাধ্যমে তিনি কৃষকপন্থী নেত্রী হিসেবে জনপ্রিয়তা পান। সাধারণ মানুষ তাকে ভালোবেসে ‘দিদি’ নামে ডাকতে শুরু করে।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারি, তোলাবাজি ও নারী নিরাপত্তা নিয়ে জনঅসন্তোষ বাড়তে থাকে। বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের অতিরিক্ত ক্ষমতা ও আর্থিক অনিয়ম দলটির ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এখন মমতার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক বাস্তবতায় ক্ষমতা হারানোর পর অনেক নেতাকর্মী নতুন ক্ষমতাকেন্দ্রের দিকে ঝুঁকে পড়তে পারেন।
পরাজয়ের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বলেন, “আমি এখন মুক্ত বিহঙ্গ, একজন সাধারণ মানুষ। আমার আর কোনো চেয়ার নেই।”
তিনি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে দাবি করেন, “আমরা নির্বাচনে হারিনি। আমাদের কাছ থেকে জোর করে জয় কেড়ে নেওয়া হয়েছে।”
বিশ্লেষকদের মতে, মমতা আবারও রাজপথের রাজনীতিতে সক্রিয় হতে পারেন। তবে তিনি নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন নাকি এই পরাজয়ই তার রাজনৈতিক অধ্যায়ের বড় মোড় হয়ে থাকবে—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
সূত্র: BBC
/এএসএফ