• ঢাকা
  • সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০১ পিএম


ইরান-পাকিস্তান কূটনীতির নতুন মাত্রা

ইরানের জন্য ৬ টি স্থলপথ খুলে দিল পাকিস্থান

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২ মে ২০২৬ ১১:৫৫ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণে সমুদ্রপথে বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ায় ইরানে পণ্য পরিবহনের জন্য ছয়টি স্থল ট্রানজিট রুট চালু করেছে পাকিস্তান। এর মাধ্যমে পাকিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরান-এর জন্য একটি আনুষ্ঠানিক সড়ক করিডর চালু হলো বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।

পাকিস্তানের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ২৫ এপ্রিল ‘ট্রানজিট অব গুডস থ্রু টেরিটরি অব পাকিস্তান অর্ডার ২০২৬’ জারি করে, যা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, তৃতীয় দেশের পণ্য পাকিস্তানের ভেতর দিয়ে সড়কপথে ইরানে পাঠানো যাবে।

এই সিদ্ধান্তের সময়ই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইসলামাবাদ সফর করেন এবং প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনির-এর সঙ্গে বৈঠক করেন। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চলমান উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার অংশ হিসেবেও এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ।

পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী জাম কামাল খান বলেন, এই উদ্যোগ আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে সহায়ক হবে এবং পাকিস্তানকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট করিডর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।

তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ইরানের ওপর চাপ বজায় রাখতে চাওয়া ওয়াশিংটনের কৌশল এই উদ্যোগে দুর্বল হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নতুন ট্রানজিট সুবিধা ভারতীয় পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের পর জারি করা নিষেধাজ্ঞা এখনো বহাল রয়েছে, ফলে ভারতের কোনো পণ্য এই করিডর ব্যবহার করতে পারবে না।

নির্ধারিত ছয়টি রুট পাকিস্তানের করাচি, পোর্ট কাসিম ও গোয়াদার বন্দরকে ইরানের গাবদ ও তাফতান সীমান্তের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এসব রুট বেলুচিস্তানের তুরবাত, পানজগুর, খুজদার, কোয়েটা ও দালবন্দিন হয়ে বিস্তৃত।

সবচেয়ে ছোট গোয়াদার বন্দর থেকে গাবদ করিডরে যাতায়াত সময় মাত্র ২ থেকে ৩ ঘণ্টা লাগতে পারে, যেখানে করাচি বন্দর থেকে ইরান সীমান্তে পৌঁছাতে সময় লাগে ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা। এতে পরিবহন ব্যয় ৪৫ থেকে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বর্তমানে করাচি বন্দরে ৩ হাজারের বেশি কনটেইনার আটকে রয়েছে। যুদ্ধঝুঁকি বীমার খরচ বেড়ে যাওয়ায় সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন করিডর শুধু বাণিজ্য নয়, আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আফগানিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান এখন পশ্চিমমুখী বাণিজ্যে নতুন বিকল্প তৈরি করছে।

সব মিলিয়ে, পাকিস্তানের এই পদক্ষেপ দক্ষিণ ও পশ্চিম এশিয়ার বাণিজ্য মানচিত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘোরানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে।