• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২১ এএম


ছেলের ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তির আনন্দে ওমরাহ, রিয়াদ বিমানবন্দরে হা’মলায় বাবার মৃ’ত্যু—আহ’ত দুই সন্তান

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৩৯ পিএম

বড় ছেলের ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি হওয়ার আনন্দে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে ওমরাহ পালনে যাচ্ছিলেন ভারতের হায়দরাবাদের তথ্যপ্রযুক্তি প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইউসুফ আলী। তবে সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত ১০ অক্টোবর হুতি হামলায় গুরুতর আহত হয়ে পরদিন মারা যান তিনি। এ ঘটনায় তাঁর দুই ছেলে আহত হয়ে এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আরব নিউজকে এসব তথ্য জানিয়েছেন ইউসুফের আত্মীয় ও প্রতিবেশী মোহাম্মদ আকবর হাশমি।

হাশমির বর্ণনা অনুযায়ী, মদিনাগামী ফ্লাইটের অপেক্ষায় বিমানবন্দরে অবস্থান করছিলেন ইউসুফ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। একপর্যায়ে বড় ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে জুস কিনতে যান তিনি। পরিবারের অন্য সদস্যরা তখন অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় হামলায় ইউসুফ ও তাঁর বড় ছেলে গুরুতর আহত হন। তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত ইউসুফকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

ইউসুফ সৌদি আরব ও ভারতে কাজ করতেন। বড় ছেলের শিক্ষাজীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হওয়ায় সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ওমরাহ পালনের পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। এ যাত্রায় তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী, দুই ছেলে, মেয়ে এবং পরিবারের এক নারী স্বজন।

আরব নিউজের ১৫ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলায় আহত ইউসুফের দুই ছেলে এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অন্যদিকে, মেয়ে ও পরিবারের ওই নারী স্বজন তুলনামূলক কম আহত হওয়ায় চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। ইউসুফের স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়নি। বর্তমানে তিনিই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুই সন্তানের দেখাশোনা করছেন।

মোহাম্মদ আকবর হাশমি জানিয়েছেন, ইউসুফের বড় ছেলের দুই হাঁটুতে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। ভাঙা কাচের আঘাতে তার পেটেও অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ফিরতে তার আরও প্রায় তিন সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

হাশমি আরও জানান, সন্তানদের বাবার মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছে। ছেলের কলেজে ভর্তির আনন্দে পরিবারের সবাইকে নিয়ে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা ইউসুফের এই সফর শেষ পর্যন্ত মর্মান্তিক পরিণতিতে রূপ নেয়।

/এসএন