• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫২ এএম


দীর্ঘ এক যুগের অপেক্ষার অবসান, চীন-উত্তর কোরিয়ার নতুন সেতু চালু

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ১১:৪০ পিএম

১২ বছর পর খুলল চীন-উত্তর কোরিয়া সংযোগ সেতু, বাড়বে বাণিজ্যিক যোগাযোগ

দীর্ঘ ১২ বছর পর চীন ও উত্তর কোরিয়াকে সংযুক্তকারী একটি সেতু চালু করা হয়েছে। প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে সেতুটি খুলে দেওয়া হয়।

চীন উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির কারণে দেশটির ওপর কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা থাকলেও উত্তর কোরিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সহায়তার উৎস হিসেবে রয়েছে চীন।

ইয়ালু নদীর ওপর নির্মিত ‘নিউ ইয়ালু রিভার ব্রিজ’ চীনের সীমান্তবর্তী শহর দানদং থেকে উত্তর কোরিয়ার সিনুইজু পর্যন্ত বিস্তৃত। প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতু চালু হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক যোগাযোগ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এটি চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান স্থলপথ হয়ে উঠতে পারে।

কেন ১২ বছর বন্ধ ছিল সেতুটি?

২০১৪ সালে সেতুটি চালু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বেইজিংয়ের সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্কের অবনতি ঘটলে উত্তর কোরিয়া নিজেদের অংশে অবকাঠামো নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দেয়। এর ফলে সেতুটি চালুর উদ্যোগ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এক ভিডিও বার্তায় চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং বলেন, সেতুটি ‘চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যকার ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বের একটি নতুন প্রতীক’। তাঁর ভাষায়, এর মাধ্যমে দুই দেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ‘একটি নতুন অধ্যায়’ উন্মোচন করছে।

নতুন সেতুটি কয়েক দশক পুরোনো চীন-কোরিয়া মৈত্রী সেতুর বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। পুরোনো সেতুটি ১৯৩৭ থেকে ১৯৪৩ সালের মধ্যে নির্মাণ করেছিল জাপান।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বুধবার বলেন, নতুন সেতুটি দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাঁর মতে, এই পথ বাণিজ্য এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আদান-প্রদান আরও সহজ করবে।

গত বছর দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ২৭০ কোটি ডলার

গত বছর চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার বা ২৭০ কোটি ডলার। এর বেশির ভাগ রপ্তানি করেছে চীন।

তবে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা এখনো কার্যকর থাকায় নতুন সেতু চালুর পরপরই সীমান্ত দিয়ে বাণিজ্যের পরিমাণ ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করেন দক্ষিণ কোরিয়ার হানকুক ইউনিভার্সিটি অব ফরেন স্টাডিজের চীনা অধ্যয়নবিষয়ক অধ্যাপক কাং জুন-ইয়ং।

তিনি বলেন, পিয়ংইয়ং নিজেও চীনা পণ্যের আমদানি হঠাৎ অনেক বাড়ানোর বিষয়ে সতর্ক। কারণ, এতে উত্তর কোরিয়ার অভ্যন্তরীণ বাজারে চীনের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। চীনও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। ফলে দুই দেশের বাণিজ্য ধীরে ধীরে বাড়তে পারে বলে মনে করেন এই অধ্যাপক।

দীর্ঘদিনের মিত্র হলেও সম্পর্কে ছিল টানাপোড়েন

বেইজিং ও পিয়ংইয়ং দীর্ঘদিনের মিত্র। দেশ দুটির মধ্যে একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে। চীনের এমন চুক্তি রয়েছে কেবল উত্তর কোরিয়ার সঙ্গেই।

তবে দুই দেশের সম্পর্কে সব সময় উষ্ণতা ছিল না। ২০১০-এর দশকের বড় একটি সময়জুড়ে তাদের সম্পর্ক বেশ শীতল ছিল। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে চীনের অসন্তোষ এর অন্যতম কারণ।

২০১৭ সালে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন একটি পারমাণবিক পরীক্ষা চালান। এরপর দেশটি নিষিদ্ধ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষাও বাড়িয়ে দেয়। এসব ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ বৃদ্ধি পায় এবং দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের সঙ্গে দেশটির সামরিক জোট আরও শক্তিশালী হয়।

উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চীনের অবস্থানে পরিবর্তন

সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর কোরিয়ার বিষয়ে চীনের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক এডওয়ার্ড হাওয়েল।

তিনি বলেন, ‘মাত্র এক দশক আগেও বেইজিং উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিকীকরণের কঠোর সমালোচনা করত, এমনকি পিয়ংইয়ংয়ের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের আহ্বানও জানিয়েছিল। কিন্তু এখন চীন এ বিষয়ে প্রায় কিছুই বলছে না।’

নতুন সেতুটি চালুর মধ্য দিয়ে চীন ও উত্তর কোরিয়ার বাণিজ্যিক যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, দুই দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে বিদ্যমান পরিস্থিতি ভবিষ্যতে বাণিজ্য সম্প্রসারণের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সূত্র: বিবিসি

/এএসএফ