দিল্লিতে বিরোধীদের ধরপাকড়কে ‘জনগণের জয়’ বলল বিজেপি
ভোটার তালিকায় জালিয়াতির অভিযোগ তুলে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ও বিরোধী দলগুলোর আন্দোলন দমনে দিল্লিজুড়ে পুলিশের ব্যাপক ধরপাকড়কে ‘জনগণের জয়’ বলে অভিহিত করেছে ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। একই সঙ্গে বিরোধীদের সাম্প্রতিক আন্দোলনের সমালোচনা করেছেন দলটির নেতারা।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বিজেপির এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মুখপাত্র রবিশঙ্কর প্রসাদ এ মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোটের সাম্প্রতিক আন্দোলনের সমালোচনা করেন।
নির্বাচনী ব্যবস্থার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেন, ‘ভারত কোনও বানানা রিপাবলিক বা কলা প্রজাতন্ত্র নয়।’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারত কখনো মাথা নত করেনি এবং করবেও না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
দিল্লিতে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে দাবি করে বিজেপির এই মুখপাত্র বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো থেকে দুটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে। প্রথমত, ভারতীয় গণতন্ত্র অরাজকতা উসকে দেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টাকে নস্যাৎ করেছে। দ্বিতীয়ত, দেশ পরিচালিত হবে সংসদের নীতিতে, রাজপথের মাধ্যমে নয়।
রবিশঙ্কর প্রসাদ আরও দাবি করেন, আসাম, পশ্চিমবঙ্গ ও পুদুচেরির উপনির্বাচনে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট জয়লাভ করেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দিল্লিতে আন্দোলন চলার সময় জনগণ নির্বাচনের মাধ্যমে নিজেদের মতামত জানিয়েছে।
কংগ্রেসকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, বিজেপি আন্দোলনের বিরোধী নয়। তবে বারবার নির্বাচনে পরাজিত হয়ে কংগ্রেস রাজপথের আন্দোলনকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বিজেপির এই মুখপাত্রের দাবি, পরাজয়ের হতাশা থেকে বিরোধী দলগুলো দিল্লির মানুষকে কয়েক দিন ধরে ভোগান্তিতে ফেলছে। জনগণ তাদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে শনিবার সকালে দিল্লিতে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকসহ দলটির অন্যান্য শীর্ষ নেতা এবং তিন হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই দিন দিল্লির সাবেক চার মুখ্যমন্ত্রী—আম আদমি পার্টির অরবিন্দ কেজরিওয়াল, তৃণমূল কংগ্রেসের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, বামপন্থী নেতা পিনারাই বিজয়ন ও মানিক সরকার—এবং আইসা সভাপতি নেহা বোরাকেও আটক করে পুলিশ।
আন্দোলনকারীদের যন্তর মন্তরে পৌঁছাতে বাধা দিতে দিল্লিজুড়ে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।
এদিকে চার দিনের আন্দোলন শেষে শুক্রবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে স্মারকলিপি জমা দেয় ইন্ডিয়া জোট। স্মারকলিপি দেওয়ার পর রাহুল গান্ধী দাবি করেন, ‘ভোট চুরি’ নিয়ে রাষ্ট্রপতি তাঁর সঙ্গে দ্বিমত করেননি। রবিশঙ্কর প্রসাদ এ বক্তব্যের সমালোচনা করে একে রাষ্ট্রপতির পদের প্রতি চরম অপমান বলে আখ্যা দেন।
সূত্র: এনডিটিভি
/এএসএফ