• ঢাকা
  • সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১২ এএম


মলদোভার আকাশসীমায় রুশ ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র, রাষ্ট্রদূতকে তলব

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৩ অক্টোবর ২০২৬ ১০:২২ পিএম

রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মলদোভার আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনায় দেশটিতে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে চিসিনাউ। প্রতিবেশী ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার মধ্যে কয়েক দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো রুশ কূটনীতিককে তলব করল মলদোভা। শনিবার (৩ অক্টোবর) এ ঘটনা ঘটে।

মলদোভার কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, শনিবার ভোরে ইউক্রেনে রুশ হামলার সময় তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ও দুটি ড্রোন দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করে। প্রায় ১৫ মিনিটের মধ্যে এসব আকাশযান মলদোভার আকাশসীমা অতিক্রম করে এবং দেশটির চারটি জেলার বিভিন্ন এলাকার কাছে বিস্ফোরিত হয়। এতে কয়েকটি স্থানে অগ্নিকাণ্ড ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটলেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

মলদোভার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ঘটনাকে দেশটির সার্বভৌম আকাশসীমার গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেছে। একই সঙ্গে রুশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করে মস্কোকে এ ধরনের ঘটনা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এর মাত্র দুই দিন আগেও তিনটি ড্রোন মলদোভার আকাশসীমায় প্রবেশের ঘটনায় রুশ দূতকে তলব করা হয়েছিল।

মলদোভার প্রেসিডেন্ট মায়া সান্দু বলেছেন, রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধ এখন ক্রমেই তার দেশের কাছাকাছি চলে আসছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, মাত্র প্রায় ১৫ মিনিটের মধ্যে পাঁচটি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মলদোভার আকাশসীমা অতিক্রম করে এবং দেশটির ভূখণ্ডে বিস্ফোরিত হয়।

সান্দুর ভাষ্য, রাশিয়ার এসব কর্মকাণ্ড শুধু মলদোভার জনগণ নয়, ইউরোপজুড়ে মানুষের জীবনকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। তিনি ইউক্রেনে চলমান রুশ হামলার কারণে মলদোভার নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ার বিষয়টি তুলে ধরেন।

তবে সর্বশেষ ঘটনার বিষয়ে রাশিয়া তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। এর আগে মলদোভায় নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত ওলেগ ওজেরভ দেশটির আকাশসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগকে প্রমাণহীন বলে দাবি করেছিলেন। একই সঙ্গে মলদোভার পক্ষ থেকে যৌথ তদন্তের প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা রাশিয়ার পক্ষ থেকে উপেক্ষা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

মলদোভার সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত রুশ ড্রোন দেশটির আকাশসীমায় ৪৫ বারের বেশি প্রবেশ করেছে। শুধু গত এক সপ্তাহেই আটবার এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে চিসিনাউ। এসব অনুপ্রবেশের কারণে দেশটির আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘটনাও ঘটেছে এবং বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

মলদোভার প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৩ অক্টোবরের ঘটনায় পাঁচটি আকাশযান—তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ও দুটি ড্রোন—দেশটির আকাশসীমা অতিক্রম করে মাটিতে বিস্ফোরিত হয়েছে। পাশাপাশি আরও একটি অননুমোদিত উড্ডয়ন শনাক্ত করা হয়েছিল।

ন্যাটোর সদস্য না হলেও মলদোভা ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার ইউক্রেন আগ্রাসন শুরুর পর থেকে কিয়েভকে রাজনৈতিকভাবে সমর্থন দিয়ে আসছে। একই সময়ে দেশটি নিজেদের নিরাপত্তা ও আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে। মলদোভার কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিবেশী ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে দেশটির আকাশসীমা ও বেসামরিক নিরাপত্তার ওপর ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে।

/এএসএফ