• ঢাকা
  • রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৮ পিএম


ইরানে সাধারণ মানুষকে সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু, তৈরি হবে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৪ অক্টোবর ২০২৬ ১০:২৪ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক উত্তেজনার মধ্যে সাধারণ নাগরিকদের সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেছে ইরান। ‘জানফিদা’ কর্মসূচির আওতায় স্বেচ্ছাসেবীদের এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, জরুরি পরিস্থিতিতে জাতীয় প্রতিরক্ষায় সহায়তা করার জন্য নাগরিকদের প্রস্তুত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) থেকে রাজধানী তেহরানের তিনটি সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়েস্ট এশিয়া নিউজ এজেন্সি (ডব্লিউএএনএ)। ইরানের সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা বিভাগের উপপ্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রেজা আরিয়ান-নাজাদ জানান, সেনাবাহিনীর চারটি শাখার সদস্যরা এসব প্রশিক্ষণ পরিচালনা করবেন।

তিনি বলেন, প্রশিক্ষণের শুরুতে স্বেচ্ছাসেবীদের মৌলিক সামরিক শিক্ষা দেওয়া হবে। পরে তাদের আরও উন্নত পর্যায়ের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

‘জানফিদা’ শব্দটির অর্থ আত্মউৎসর্গ বা দেশের জন্য জীবন উৎসর্গকারী। ইরানের কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে এ কর্মসূচিকে একটি বৃহত্তর জাতীয় প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি উদ্যোগ হিসেবে এগিয়ে নিচ্ছে। এর আগে দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, জানফিদা কর্মসূচির আওতায় ১ হাজার ‘জাতীয় প্রতিরোধ ব্যাটালিয়ন’ গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।

জানফিদা কর্মসূচির সঙ্গে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ও এর স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী বাসিজেরও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে তেহরানের ইমাম হোসেইন স্কয়ারে বাসিজের তত্ত্বাবধানে জানফিদার একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র চালু করা হয়। সেখানে স্বেচ্ছাসেবীদের সামরিক প্রস্তুতি, স্থানীয় নিরাপত্তা, নজরদারি, অনুসন্ধান ও উদ্ধার এবং অস্ত্র ব্যবহারের মতো বিষয়ে প্রশিক্ষণের কথা জানানো হয়েছিল।

এর আগে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকেই জানফিদা কর্মসূচির আওতায় নাগরিকদের সামরিক ও উদ্ধার প্রশিক্ষণের জন্য নিবন্ধনের খবর প্রকাশিত হয়। ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কর্মসূচির বিভিন্ন পর্যায়ে মৌলিক, মধ্যম ও উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে।

ইরানের কর্মকর্তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবীদের বিভিন্ন প্রতিরক্ষা ও জরুরি পরিস্থিতিতে কাজে লাগানো হতে পারে। তবে প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীর মোট সংখ্যা এবং তেহরানের বাইরে এটি কত দ্রুত সম্প্রসারিত হবে, সে বিষয়ে সর্বশেষ ঘোষণায় বিস্তারিত জানানো হয়নি।

জানফিদা কর্মসূচির পরিধি নিয়ে ইরানের সরকারি বিভিন্ন সূত্র বড় সংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণের দাবি করলেও এসব সংখ্যার স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কর্মসূচিটি কেবল সামরিক প্রশিক্ষণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; উদ্ধার, সামাজিক সেবা ও অন্যান্য জরুরি কর্মকাণ্ডেও স্বেচ্ছাসেবীদের যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে নাগরিকদের সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার এই উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে। বিশেষ করে জানফিদার মাধ্যমে বেসামরিক নাগরিকদের একটি সংগঠিত সহায়ক সামরিক কাঠামোর আওতায় আনা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বাসিজ ও আইআরজিসির সঙ্গে কর্মসূচিটির ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা এবং স্বেচ্ছাসেবীদের ব্যাটালিয়নভিত্তিক সংগঠিত করার পরিকল্পনার কথা উঠে এসেছে।

ইরানের পক্ষ থেকে অবশ্য কর্মসূচিটিকে জাতীয় প্রতিরক্ষা ও জরুরি পরিস্থিতির প্রস্তুতি হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। দেশটির সেনাবাহিনীর সর্বশেষ ঘোষণায়ও বলা হয়েছে, প্রথমে সাধারণ সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং পরে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

/এএসএফ