• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৬ পিএম


মার্কিন সেনা প্রত্যাহারে ইরাকে উৎসব, কুচকাওয়াজে মুখর বাগদাদ

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৫৯ এএম

দুই দশকেরও বেশি সময় পর ইরাক থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর চূড়ান্ত প্রস্থান সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ সামরিক উপস্থিতির অবসান ঘটল। ঐতিহাসিক এই মুহূর্তে রাজধানী বাগদাদসহ বিভিন্ন শহরে আনন্দমিছিল ও সামরিক কুচকাওয়াজ করেছেন ইরাকিরা।বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) উত্তর ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি অঞ্চলের এরবিল বিমানঘাঁটি থেকে মার্কিন বাহিনী ও তাদের সরঞ্জামের শেষ দলটি চলে যায়। এর মধ্য দিয়ে ইরাকে ‘অপারেশন ইনহেরেন্ট রেজল্ভ’-এর আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, এই প্রত্যাহার ওয়াশিংটন ও বাগদাদের মধ্যে একটি নতুন দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সম্পর্কের দিকে রূপান্তরের অংশ।২০০৩ সালে ইরাকি প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আগ্রাসনের মধ্য দিয়ে ইরাকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির সূচনা হয়। ২০১১ সালের শেষ দিকে মার্কিন সেনারা ইরাক থেকে প্রত্যাহার করেছিল। তবে ২০১৪ সালে ইসলামিক স্টেট (আইএস) ইরাক ও সিরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করার পর আইএসবিরোধী অভিযানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট আবার ইরাকে মোতায়েন হয়।২০২৪ সালে ওয়াশিংটন ও বাগদাদ ইরাকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের সামরিক মিশন ধাপে ধাপে শেষ করার বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছায়। সেই চুক্তির ধারাবাহিকতায় ইরাকের বিভিন্ন ঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনা ও সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়া হয় এবং শেষ পর্যন্ত এরবিলেও মার্কিন উপস্থিতির অবসান ঘটে।মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে কেন্দ্র করে বাগদাদ ও অন্যান্য শহরে উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়। ইরাকি বাহিনী সামরিক যান নিয়ে কুচকাওয়াজ করে। অনেক ইরাকি এই ঘটনাকে দেশের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছেন। একই সঙ্গে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। বিশেষ করে আইএসের অবশিষ্ট সদস্য, বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।মার্কিন ও ইরাকি কর্মকর্তারা বলছেন, ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনী এখন দেশের নিরাপত্তার প্রধান দায়িত্ব গ্রহণ করবে। মার্কিন বাহিনী ইরাক থেকে সরে গেলেও দুই দেশের মধ্যে প্রশিক্ষণ, গোয়েন্দা সহায়তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। একই সময়ে আইএসবিরোধী মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের কার্যক্রম সিরিয়ায় চলবে।মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, আইএস বর্তমানে ইরাকের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য আগের মতো একটি কাঠামোগত হুমকি নয় এবং ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনী এককভাবে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা মোকাবিলার সক্ষমতা অর্জন করেছে। তবে মার্কিন বাহিনী ও জোটের সদস্যরা আইএসের সম্ভাব্য হুমকির বিরুদ্ধে প্রয়োজন হলে প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতা বজায় রাখবে।ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী ফালেহ আল-জাইদি বলেছেন, আন্তর্জাতিক জোটের সামরিক মিশনের সমাপ্তি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সমাপ্তি নয়। বরং এর মাধ্যমে ইরাক এমন একটি পর্যায়ে প্রবেশ করছে, যেখানে দেশটির নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার পূর্ণ দায়িত্ব ইরাকি রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে থাকবে।অন্যদিকে, ইরান ও দেশটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে তাদের দীর্ঘদিনের দাবির বাস্তবায়ন হিসেবে দেখছে। তবে ইরাকের কুর্দি অঞ্চলসহ বিভিন্ন মহলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি শেষ হওয়ার পর সম্ভাব্য নিরাপত্তা শূন্যতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।ইরাকে দুই দশকের বেশি সময়ের মার্কিন সামরিক উপস্থিতির এই সমাপ্তি দেশটির জন্য একই সঙ্গে একটি প্রতীকী ও বাস্তব পরিবর্তন। এখন ইরাকি সরকারের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে শক্তিশালী করা, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা এবং আইএসের অবশিষ্ট তৎপরতা মোকাবিলা করা।

/বিএসএস