• ঢাকা
  • বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৪ এএম


জাতিসংঘে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: চুক্তি না হলে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:১৪ এএম

শান্তিচুক্তি না হলে ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, যুদ্ধের অবসানে কোনো চুক্তি না হলে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। একই সঙ্গে তেহরানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনাও তিনি উড়িয়ে দেননি।

ট্রাম্প বলেন, ইরানের সামনে মূলত দুটি পথ খোলা—যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এমন একটি চুক্তিতে পৌঁছানো, যার মাধ্যমে দেশটি পুনর্গঠন করে আগের চেয়ে শক্তিশালী ও উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে, অথবা নতুন করে মার্কিন সামরিক অভিযানের মুখোমুখি হওয়া।

ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ‘এবার আমাকে একটি বড় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ইরানের সঙ্গে কি এমন কোনো চুক্তি হবে, যার মাধ্যমে দেশটি পুনর্গঠন হবে এবং অতীতের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও উন্নত দেশ হয়ে উঠতে পারবে? না কি আমি ইসলামি প্রজাতন্ত্রটিকে নিশ্চিহ্ন করে দেব এবং তা করব দ্রুত, যাতে তারা আর কখনোই হত্যাকাণ্ড ও ধ্বংসলীলা চালানোর সুযোগ না পায়?’

এরপর তিনি প্রশ্ন করেন, ‘আমি কি তাদের অস্তিত্বের সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বা মহত্ত্বের কোনো আশা ছাড়া নরকে ঠেলে দেব?’

তবে ইরানের সঙ্গে চুক্তির সম্ভাবনাও নাকচ করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর তেহরানের সঙ্গে একটি চুক্তি হতে পারে। ট্রাম্পের ভাষ্য, ‘আমার বিশ্বাস, নির্বাচনের ঠিক পরেই আমরা একটি চুক্তি করব। কারণ, চুক্তি না করার কোনো যুক্তিযুক্ত কারণ তাদের নেই। মধ্যবর্তী নির্বাচনে আমি কেমন ফল করি, তারা সেটাই দেখার অপেক্ষা করছে।’

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের ভাষণে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, এই যুদ্ধের মাধ্যমে তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে দেশটির ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার জন্য অন্যান্য দেশকেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ঘটতে পারে। জাতিসংঘের ভাষণের পর তিনি সাংবাদিকদের জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা মঙ্গলবারও আলোচনা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে শেষ পর্যন্ত একটি সমঝোতা হবে বলে তিনি মনে করেন।

ভাষণে ভেনেজুয়েলা প্রসঙ্গও তুলে ধরেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ প্রমাণ করেছে, পশ্চিম গোলার্ধের কোথাও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনো হুমকিকে আর শিকড় গাড়তে দেওয়া হবে না। তাঁর বক্তব্যে ইরান ছাড়াও ভেনেজুয়েলা, ইউক্রেন, গাজা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং জাতিসংঘের ভূমিকার মতো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয় উঠে আসে।

এদিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে ইরান সরকারবিরোধী শত শত মানুষ বিক্ষোভ করেন। তাদের হাতে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের পক্ষে এবং ইরানের শাসনব্যবস্থার বিরোধিতা করে বিভিন্ন দাবিসংবলিত পোস্টার দেখা যায়।

জাতিসংঘের এবারের অধিবেশনে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ এবং সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমাধান, বিশ্বনেতাদের আলোচনায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। ইরানও কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে; তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ কমানো এবং যুদ্ধের অবসান নিয়ে আলোচনার শর্তগুলোই এখন সম্ভাব্য সমঝোতার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে সামনে রয়েছে।

/এএসএফ