স্পেনের একটি গ্রামে ভয়াবহ দাবানলে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় এখনো ১৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন। শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে চারজন নিজেদের গাড়ির ভেতরে থাকা অবস্থায় আগুনে পুড়ে মারা যান। গাড়িটি ডান-হাতি স্টিয়ারিংযুক্ত (রাইট-হ্যান্ড ড্রাইভ) হওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, তারা ব্রিটিশ নাগরিক হতে পারেন। তবে এখনো তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের অনেকেই লস গাইয়ারদোস জেলার ছোট গ্রাম বেদারে বেড়াতে আসা বিদেশি পর্যটক হতে পারেন। তাদের পরিচয় নিশ্চিত করার কাজ চলছে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, দ্রুত ছড়িয়ে পড়া আগুন থেকে বাঁচতে অনেক মানুষ দুর্গম বনাঞ্চল পেরিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন।
স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলের আন্দালুসিয়া অঞ্চলের আলমেরিয়ার উত্তর-পূর্ব এলাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রায় ৪০০ দমকলকর্মী ও সেনাসদস্য কাজ করছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, একটি বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে ঝোপঝাড়ে পড়ে আগুন লাগার পর সেখান থেকেই দাবানলের সূত্রপাত হতে পারে।
তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যেই এই দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। শুক্রবার স্পেন ও ফ্রান্স—উভয় দেশেই তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। একই সময়ে দুই দেশেই একাধিক দাবানল জ্বলছিল।
আন্দালুসিয়া প্রদেশের জরুরি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক মন্ত্রী আন্তোনিও সান্স এক ভিডিও বার্তায় বলেন, “এ মুহূর্তে আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে লস গাইয়ারদোসের দাবানলে ১১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এমন শোক ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।”
তিনি আরও বলেন, “সবকিছুই ইঙ্গিত করছে যে মৃতদের বেশির ভাগ কিংবা সবাই বিদেশি নাগরিক।”
আন্তোনিও সান্স জানান, দাবানলটি ছিল “অত্যন্ত জটিল ও অত্যন্ত দ্রুত ছড়িয়ে পড়া”। তার ভাষায়, যে এলাকায় আগুন লেগেছে সেখানে অসংখ্য গিরিখাত এবং বনাঞ্চলের মধ্যে বসতি থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
আন্দালুসিয়ার প্রাদেশিক সরকার জানিয়েছে, আগুন লাগার পর জরুরি সেবা বিভাগে ১৫০টিরও বেশি ফোনকল আসে। গ্রামের পাশ দিয়ে যাওয়া একটি প্রধান মহাসড়ক থেকেও আগুনের বিশাল শিখা দেখা যাচ্ছিল।
এ ঘটনায় আটজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
এ ছাড়া দাবানলে প্রায় ৩ হাজার ১৫০ হেক্টর (৭ হাজার ৭৮০ একর) বনভূমি ও কৃষিজমি পুড়ে গেছে।
আন্দালুসিয়ার প্রাদেশিক সরকারের প্রধান হুয়ান ম্যানুয়েল মোরেনো বনিয়া জানিয়েছেন, এখনও ১৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন একটি ছিঁড়ে পড়া বৈদ্যুতিক তার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে তা দ্রুত সড়কের পাশের বনাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
দাবানলের কারণে একটি প্রধান সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রায় ১৫০ জনকে একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। দমকলকর্মীদের সহায়তায় স্পেনের সামরিক জরুরি ইউনিট (ইউএমই) মোতায়েন করা হয়েছে।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বার্তায় জানান, দাবানলের ভয়াবহ পরিণতিতে তিনি “গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত”।
এর আগে গত মে মাসে সানচেজ জানিয়েছিলেন, চলতি গ্রীষ্মে দাবানল মোকাবিলায় ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রস্তুতি মোতায়েন করবে স্পেন।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্পেনে তাপপ্রবাহের ঘটনা আরও ঘন ঘন এবং দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। প্রায়ই তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের দাবানল ছড়িয়ে পড়ার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।
/এসএন