ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করার অভিযোগ এনে দুই দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো দেশব্যাপী বড় ধরনের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। মঙ্গলবার দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে সরকার যে আশ্বাস দিয়েছিল, সাম্প্রতিক আইনি প্রক্রিয়ার কারণে তা এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনের বরাতে জানা যায়, রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরসহ বিভিন্ন স্থানে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের বলপ্রয়োগের ঘটনায় দায়ের হওয়া একাধিক আবেদনের শুনানি করেন ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ। শুনানি শেষে আদালত নির্দেশ দেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না এবং যাদের পূর্বে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই, তাদের মুক্তি দিতে হবে।
তবে আদালতের আদেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিষয়ও উল্লেখ করা হয়। সেখানে বলা হয়েছে, দিল্লি এনসিটিসহ অন্যান্য রাজ্যে দায়ের করা এফআইআরগুলোর তদন্ত চলমান রাখতে পারবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে যাদের বিরুদ্ধে আগে কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই, কেবল তারাই কঠোর পদক্ষেপ থেকে সুরক্ষা পাবেন।
সুপ্রিম কোর্টের এই আদেশকে আন্দোলনকারীদের জন্য ‘সতর্কঘণ্টা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এই রায় ২৫ জুলাই ভারত সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী। তার দাবি, সরকার স্পষ্টভাবে আশ্বাস দিয়েছিল যে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব এফআইআর প্রত্যাহার করা হবে এবং কাউকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। সেই আশ্বাসের ভিত্তিতেই ককরোচ জনতা পার্টি তাদের আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিত করেছিল।
সিজেপির আশঙ্কা, তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া অনুমতিকে বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্য আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে পারে। সৌরভ দাস অভিযোগ করেন, সরকারের আইনজীবীরা আন্দোলনকারীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতির বিষয়টি জানলেও আদালতে এই আদেশের বিরোধিতা করেননি, যা তাদের কাছে অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
কেন্দ্রীয় সরকারকে সতর্ক করে সিজেপির মুখপাত্র বলেন, সরকারের দেওয়া সময়সীমা মঙ্গলবারই শেষ হচ্ছে। তাই আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া প্রতিটি এফআইআর প্রত্যাহার করতে হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। অন্যথায় দেশের যুবসমাজ ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় সিজেপি আবারও রাজপথে নামতে বাধ্য হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
এর আগে সোমবার দলটির আরেক মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কাও একই ধরনের সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার সমঝোতার শর্ত লঙ্ঘন করে শত শত প্রতিবাদকারীকে গ্রেপ্তার করেছে। একই সঙ্গে তিনি দ্রুত আটক সব শিক্ষার্থীকে মুক্তি দেওয়া এবং নতুন করে কোনো মামলা দায়ের না করার দাবি জানান।
ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনের পর ককরোচ জনতা পার্টি তাদের সমর্থনে দেশব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল। পরে সরকারের সঙ্গে সমঝোতা এবং সুনির্দিষ্ট আশ্বাস পাওয়ার পর দলটি আন্দোলন স্থগিত করে। তবে সাম্প্রতিক আইনি প্রক্রিয়া ও পুলিশের তৎপরতায় সেই সমঝোতা এখন প্রশ্নের মুখে পড়েছে বলে মনে করছে সিজেপি।
/এসএন