• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০০ পিএম


চাপের মুখে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের পথে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৮ জুলাই ২০২৬ ৯:৩৯ পিএম

নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বিহার ও আসামের পর তৃতীয় রাজ্য হিসেবে পশ্চিমবঙ্গও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে নেওয়া আইনি পদক্ষেপ শিথিল করার উদ্যোগ নিয়েছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) বিভিন্ন রাজ্যে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযানের তীব্র সমালোচনা করে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সংগঠনটির নেতারা বলেন, কেন্দ্রের প্রতিনিধিরা এর আগে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহার এবং আটক ব্যক্তিদের মুক্তির আশ্বাস দিয়েছিলেন। তারা সেই প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে কেন্দ্রকে তা স্মরণ করিয়ে দেন।

সিজেপির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও আসামে আটক আন্দোলনকারীদের জন্য বিনামূল্যে আইনি সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি মঙ্গলবারের মধ্যে সব বন্দিকে মুক্তি এবং দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার না হলে দেশব্যাপী নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

সংগঠনটির ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রথমে বিহার সরকার প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আটক আন্দোলনকারীদের মুক্তির উদ্যোগের কথা জানায়। এরপর আসাম সরকার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া পাঁচটি মামলায় আটক ১৩ জনকে মুক্তি দেওয়া হবে। এ বিষয়ে চার দফা নির্দেশনাও জারি করা হয়েছে।

এরপর একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। জানা গেছে, প্রকৃত ছাত্র আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলো প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম চলবে। যদিও এসব মামলার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আর আটক রাখা হবে না বলে জানা গেছে।

গত শুক্রবার কলকাতার ধর্মতলায় নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সোমবার পর্যন্ত মোট ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করে। ওই ঘটনায় কয়েকজন সংবাদকর্মীও হামলার শিকার হন।

ঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, ধর্মতলার বিক্ষোভে পরিকল্পিতভাবে বাইরে থেকে লোক এনে অশান্তি সৃষ্টি করা হয়েছিল। তদন্তে পুলিশ অন্তত ৭০ জনকে শনাক্ত করেছে, যাদের সঙ্গে ছাত্র আন্দোলন বা ককরোচ জনতা পার্টির কোনো সম্পর্ক নেই বলে সরকারের দাবি।

সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকৃত আন্দোলনকারী ও বিশৃঙ্খলাকারীদের আলাদাভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ কারণেই ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে নেওয়া আইনি পদক্ষেপ প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সহিংসতা এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

/এসএন