ফিলিস্তিনিদের কাছে ‘আহমাদ আল-ইয়াবানি’ বা ‘আহমেদ দ্য জাপানিজ’ নামে পরিচিত জাপানি বামপন্থী গেরিলা কোজো ওকামোতো ৭৮ বছর বয়সে লেবাননের বৈরুতের দাহিয়া এলাকায় মারা গেছেন। তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে শোকবার্তা প্রকাশ করেছে ফিলিস্তিনি সংগঠন পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব প্যালেস্টাইন (পিএফএলপি)।
কোজো ওকামোতো জাপানের চরম বামপন্থী সশস্ত্র সংগঠন রেড আর্মি ফ্যাকশন-এর সদস্য ছিলেন। সত্তরের দশকে ফিলিস্তিনি সংগঠন পিএফএলপি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম চালানোর সময় জাপান, জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশের মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদী সশস্ত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রশিক্ষণের জন্য রেড আর্মি ফ্যাকশনের সদস্যরা লেবাননে পিএফএলপির ঘাঁটিতে যেতেন এবং বিভিন্ন অভিযানে অংশ নিতেন।
১৯৭২ সালে কোজো ওকামোতোসহ তিন জাপানি সদস্য ইসরায়েলের লদ বিমানবন্দরে (বর্তমান বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর) সশস্ত্র হামলা চালান। ওই হামলায় ২৬ জন নিহত এবং প্রায় ৮০ জন আহত হন। অভিযানে অংশ নেওয়া তিনজনের মধ্যে দুজন নিহত হলেও কোজো ওকামোতো আহত অবস্থায় গ্রেপ্তার হন। পরে ইসরায়েলের একটি আদালত তাকে তিনটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়।
তবে ১৯৮৫ সালে পিএফএলপি-জেনারেল কমান্ডের নেতা আহমেদ জিবরিল এবং তৎকালীন ইসরায়েলি সরকারের মধ্যে হওয়া বন্দী বিনিময় চুক্তির আওতায় তিনি মুক্তি পান। ওই চুক্তির মাধ্যমে ইসরায়েল কয়েকজন সেনার মুক্তির বিনিময়ে ১,১৫০ জন বন্দীকে মুক্তি দেয়। মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে হামাসের প্রতিষ্ঠাতা শেখ আহমেদ ইয়াসিনের পাশাপাশি কোজো ওকামোতোও ছিলেন।
মুক্তির পর জাপানে ফিরে না গিয়ে তিনি প্রথমে লিবিয়ায়, পরে সিরিয়া হয়ে লেবাননে আশ্রয় নেন। ১৯৯৭ সালে লেবানন সরকার বিদেশি সশস্ত্র সংগঠনের সদস্যদের আটক করলেও ব্যাপক জনমতের মুখে কোজো ওকামোতোকে বহিষ্কার না করে রাজনৈতিক আশ্রয় দেয়। তিনি লেবাননের ইতিহাসে রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়া প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত।
প্রায় তিন দশক লেবাননে অবস্থানের পর বৈরুতে তার মৃত্যু হয়েছে। তার মৃত্যুতে পিএফএলপি শোক প্রকাশ করেছে।
/এএসএফ